১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘পারস্যুট অব জেড’: যুদ্ধ, ভালোবাসা, প্রতিশোধের গল্প

‘ঝু য়ু’ অবলম্বনে তৈরি ধারাবাহিকটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ঝেং লিংহে এবং অভিনেত্রী তিয়ান শিওয়েই।

বিডিনিউজ২৪

তানভীন তিশা. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Apr 2026, 12:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

নেটফ্লিক্সের অইংরেজি শাখার গ্লোবাল টপ চার্টে প্রথম চীনা ধারাবাহিক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘পারস্যুট অব জেড’। 

জনপ্রিয় লেখক তুয়ানজি লাইশির ওয়েব উপন্যাস ‘ঝু য়ু’ অবলম্বনে তৈরি ধারাবাহিকটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ঝেং লিংহে এবং অভিনেত্রী তিয়ান শিওয়েই।

ঝেং লিংহে অভিনয় করেছেন ‘শিয়ে ঝেং’ এর চরিত্রে। এই চরিত্রটি একজন যোদ্ধার। কোমলে-কঠোরে মেশানো যার হৃদয়। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ, দেশরক্ষা এবং প্রেমকে অমলিন রাখতে শিয়ে ঝেং চরিত্রটি নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছে এই ধারাবাহিকে।

অন্যদিকে অভিনেত্রী তিয়ান শিওয়েই অভিনয় করেছেন ‘ফ্যান চাংইউ’ নামের এক রমনীর চরিত্রে। স্বামী শিয়ে ঝেং এর প্রতি যার সমর্থন ও সহযোগিতা এবং পারিবারিক সুনাম রক্ষায় তার লড়াই ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

৪০ পর্বের এই ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন জেং ছিংজিয়ে।

গল্পে যা আছে

এই রোমান্টিক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকের গল্প শুরু হয় লিনান শহরের একজন সাহসী দৃঢ়চেতা কসাইয়ের মেয়ে ফ্যান চাংইউ কে নিয়ে। বাবা-মা ও ছোটবোনকে নিয়ে ছোট সংসার ছিল তার। ডাকাতদলের নৃশংস আক্রমণে দুইবোন বাবা-মাকে হারায়। বাধ্য হয়ে ফ্যান চাংইউকে কসাইয়ের পেশায় নামতে হয়।

হঠাৎ একদিন তুষারঝড়ের মধ্যে চাংইউ এক আহত, রহস্যময় ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। তার নাম শিয়ে ঝেং; তিনি মূলত যুদ্ধাহত সৈনিক। চাংইউয়ের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে রাখেন তিনি। কারণ তিনি তার বাবা ও পরিবারের সঙ্গে হওয়া অন্যায়-অবিচারের প্রতিশোধ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 

চাংইউয়ের সেবাযত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন শিয়ে ঝেং। শিয়ে ঝেং ও চাংইউ পরিচয় কেবল একটি গণ্ডিতেই  আটকে থাকে না, ঘটে যায় প্রণয় এবং পরিণয়েও বাঁধা পড়েন দুজন। 

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং নতুন আরেকটি যুদ্ধের দামামায় শিয়ে ঝেং ও চাংইউের প্রেম ফিকে হয়ে যায়। এক সময় আলাদা হয়ে যায় এই দম্পতি। প্রথমে স্বামীর প্রতি চাংইউয়ের অবিশ্বাস জন্মালেও, পরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং স্বামীকে খুঁজতে শুরু করেন তিনি।  

চাংইউ ও শিয়ে ঝেং ফের মিলিত হয় এক যুদ্ধবিধ্বস্ত সেনা শিবিরে। অদম্য মনোবল নিয়ে চাংইউ তার স্বামী শিয়ে ঝেংয়ের পাশে দাঁড়ান। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও অনন্য যুদ্ধকৌশলের মাধ্যমে চাংইউ নিজেকে সেনানায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। 

এছাড়া শিয়ে ঝেং ‘আয়রন-ব্লাডেড মারকুইস’ হিসেবে নিজের সুনাম পুনরুদ্ধার করে। 

এই দম্পতি তখন সম্মিলিতভাবে যে যার পরিবারকে কলঙ্ক দায় থেকে মুক্ত করার কাজে নামেন। ১৭ বছর আগে শি ঝেংয়ের বাবা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। আর ওই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন চাংইউয়ের বাবা। 

চাংইউ ও শিয়ে ঝেং এক সঙ্গে শেষ পর্যন্ত অতীতের সেই হত্যাকাণ্ডের লুকানো সত্য উন্মোচন করেন। আর চাংইউ তার বাবাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্দোষ প্রমাণ করতে সফল হন।

নেটফ্লিক্স ছাড়াও আইকিয়ি ও উইটিভির মত জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে ‘পারস্যুট অব জেড’ শিরোনামের ধারাবাহিকটি দারুণ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে।

এই সিরিজের অভিনয়শৈলী, প্রেমের ঘটনা অ্যাকশন দৃশ্য, চমকপ্রদ প্লট থেকে শুরু করে পরিচালনা—নানা দিক থেকে এটি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে।