১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রেম এবং হাহাকারের গল্পের সিনেমা ‘টিফিন বক্স’

সোমবার রাত থেকে দেখা যাচ্ছে  ‘টিফিন বক্স’।

প্রেম এবং হাহাকারের গল্পের সিনেমা ‘টিফিন বক্স’
‘টিফিন বক্স’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: চরকির সৌজন্যে।

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Feb 2026, 12:55 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:55 PM

শহরের কোলাহলের ভিড়ে একা হয়ে পড়া মানুষের জীবনে ভালোবাসা ও যত্ন হয়ে ধরা দেয় একটি 'টিফিন বক্স'।  

তেমনই গল্পে নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি নির্মাণ করেছেন ওয়েব ফিল্ম ‘টিফিন বক্স’।    

ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের বিশেষ কনটেন্ট হিসেবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে প্রচার হচ্ছে এটি। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন রুকাইয়া জাহান চমক ও প্রান্তর দস্তিদার।    

বিজ্ঞপ্তিতে চরকি জানিয়েছে, সোমবার রাত ১২টা থেকে সীমিত দৈর্ঘ্যের এই কাহিনিচিত্রটি দেখা যাচ্ছে চরকিতে।

‘টিফিন বক্স’ নাম দেওয়ার কারণ জানিয়ে নির্মাতা বলেন, "এতে খাবারের সংযোগ আছে। ‘খেয়েছ?’, ‘খেয়েছেন?’ বা ‘খেয়েছিস?’ এদেশে এগুলো নিয়মিত ও প্রচলিত শব্দ। খুব সাধারণ মনে হলেও এই শব্দের দ্যোতনায় লুকিয়ে আছে ভালোবাসা ও যত্ন। নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি মনে করেন, ওই শব্দগুলো ভালোবাসা বা যত্নের অন্যতম অনুবাদ।"

সিনেমাটি নিয়ে এই নির্মাতা বলেন, “খাবার বা টিফিন বক্সের মাধ্যমে প্রেমের গল্প বলাটা খুব নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতিতে ‘খাওয়ানো’ বা ‘খাবার ভাগ করে নেওয়া’ হলো ভালোবাসার সবচেয়ে আদিম ও বিশুদ্ধ প্রকাশ বা বলতে পারেন এর বিকল্পও নেই। আমি এই গল্পে টিফিন বক্সকে কেবল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করিনি বরং এটি গল্পের নাগরিক জীবনকে এক স্বপ্নের জগতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।’’

সিনেমায় রন্ধনশিল্পীর চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদারকে। অভিনেতা বলেন, "চরিত্রটি রান্না করতে ভালোবাসে, মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসে। অর্থাৎ চরিত্রটি সার্ভ করতে ভালোবাসে। আর ভালোবাসাটাও তো সার্ভ করার মতই। আমার চরিত্রটি এই ধরনের। বাকিটা কনটেন্টে দেখতে হবে।"  

‘টিফিন বক্স’ সিনেমায় চমকের চরিত্রটি উচ্ছ্বল একজন নারীর, যিনি স্বাধীনভাবে বাঁচতে ভালোবাসেন। কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে চান না।  

চমক বলেন, “চরিত্রটি অনেক আনন্দে বাঁচতে চায়, কোনও পিছুটান রাখতে চায় না। কিন্তু সেই চরিত্রটিকেই একসময় বলতে হয় ‘সৃষ্টিকর্তা এমন কিছু মানুষ সৃষ্টি করেছেন, যাদের প্রেমে না পড়ে থাকা যায় না’। মিতু নামের এই চরিত্রটিকে সবাই পছন্দ করবে।”

নির্মাতা রাব্বি মনে করেন, খাবার যেমন সবার জন্য প্রয়োজন, তেমন ভালোবাসাটাও। তাই তিনি খাবার এবং ভালোবাসার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে গল্পের কাহিনী এগিয়েছেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শুধু ভালোবাসাই পারে মানুষের বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে।    

গল্প নিয়ে নির্মাতা বলেন, "মানুষের ভালোবাসা আসলে এক ধরনের বিদ্রোহ। এই নশ্বর পৃথিবীর নিয়ম হল ফুরিয়ে যাওয়া, কিন্তু ভালোবাসা সেই ফুরিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে লড়ে। এটি মূলত সময় এবং অস্তিত্বের এক লড়াই। জীবনের সব স্বাদ যখন তেতো হয়ে যায়, তখন কেবল ভালোবাসাই পারে তার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে।"  

‘টিফিন বক্স’ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শারমিন সুলতানা শর্মী, টুনটুনি সোবহানসহ অনেকে।