Published : 10 Feb 2026, 04:28 PM
অভিনেতা ক্রিস হেমসওয়ার্থ মানেই ‘আত্মবিশ্বাসের প্রতীক’। মার্ভেলের ‘থর’ চরিত্রে তিনি শক্তিশালী, অটল ও প্রায় অজেয়। কিন্তু পর্দার বাইরে তিনি যে খুব একটা নির্ভার ছিলেন না, তা নিজেই স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই অভিনেতা।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেমসওয়ার্থ বলেন, “সাক্ষাৎকারে আমাকে যেমনভাবে সবাই দেখে, বা হলিউডে গত দুই দশকে আমি নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেছি, তার একটা বড় অংশ তৈরি করা। আমি ভাবতাম, মানুষ আমাকে এভাবেই দেখতে চায়।”
৪২ বছর বয়সী এই তারকা আরও বলেন, যে ‘থর’ চরিত্রটিতে তাকে এত দর্শকপ্রিয়তা দিয়েছে, এই চরিত্রে প্রথমবার অভিনয় করার সময় তিনি তেমন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। অস্বস্তিতে ভুগতেন আর চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে বেমানান মনে হত। সে সময় অভিনয় নিয়ে দুঃশ্চিন্তা ও আতঙ্কে ভোগার কথাও বলেছেন তিনি।
তবে চরিত্রটির জন্য শারীরিকভাবে তৈরি হওয়া, কণ্ঠস্বর ভারি করা ও দৈহিক ভঙ্গি বদলানো তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছে বলে ভাষ্য হেমসওয়ার্থের।
“শরীরচর্চা করা, কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ, নিজের ভঙ্গি বদলানো আমাকে থরের চরিত্রে অভিনয়ে সাহায্য করেছে। তখন মনে হত, ঠিক আছে, কেউ আমাকে আর ছুঁতে পারবে না।”
আদতে পর্দার বাইরে হেমসওয়ার্থের এই আত্মবিশ্বাস ছিল না।
“একজন দেবতা বা সুপারহিরো হয়ে অভিনয় করাই ছিল আমার জন্য নিরাপদ,” হেমসওয়ার্থ বলেন।
“এটা দেখে সবাই ভাবত যে, আমি খুব আত্মবিশ্বাসী ও নিজের বিষয়ে নিশ্চিত।”
এই অভিনেতার নতুন সিনেমা ‘ক্রাইম ওয়ান ও ওয়ান’-এ সেই ঢাল আর নেই। সেখানে তিনি অভিনয় করেছেন মাইক ডেভিস নামে এক অলঙ্কার চোরের চরিত্রে; যে চরিত্রের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।
হেমসওয়ার্থ কলেন, “এই চরিত্রে নিজেকে বেশ স্বাধীন মনে হয়েছে। থরের মত বড় চরিত্রের আড়ালে লুকানোর সুযোগ ছিল না। একেবারে উল্টোটা করতে হয়েছে।”
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাফল্য নিয়ে তার ধারণাও বদলেছে।
তিনি বলেন, “একসময় ভাবতাম, কোনো পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলে ভালো লাগবে। বা সবচেয়ে বড় সিনেমার অংশ হলে বা নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি শুরু করলে দারুণ হবে। এখন বুঝি, এটা হাস্যকর।”
ক্যারিয়ারের শুরুতে টাকাকড়ির বিষয়টি তার কাছে অন্যতম মুখ্য বিষয় ছিল বলে জানিয়েছেন হেমসওয়ার্থ।
“আমি ভাবতাম, এত টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আমি কে? আমি তো কিছুই নিয়ে আসিনি।”
এখন তিনি বেশি গুরুত্ব দেন কাজ আর কাজের পেছনের মানুষের ওপর।
এই বদলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার বাবার অ্যালঝাইমার্স রোগ ও সন্তানদের বড় হয়ে ওঠা।
হেমসওয়ার্থ বলেন, “আগের মত দৌড়ে প্রতিযোগিতার সামনে যাওয়ার তাড়না নেই। জীবন কতটা ভঙ্গুর, সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে।”
আলঝেইমার্স নিয়ে হেমসওয়ার্থের উপলব্ধি, “এই রোগ নিয়ে সবাই অস্বস্তিতে ভোগে, যে কারণে এতে আক্রান্ত হওয়ার কথা কেউ স্বীকার করতে চায় না। নীরবে কষ্ট পায়। নানা কিছু নিয়ে কথা হলেও কেউ তাদের জিজ্ঞেস করে না, ‘আপনি কেমন আছেন? আপনার কি ভয় লাগছে?’”
ডকুমেন্টারি সিরিজ লিমিটলেস ও এর পরবর্তী পর্বগুলোতে নিজের নানা ও বাবার আলঝেইমার্স নিয়ে কথা বলেছেন হেমসওয়ার্থ।
বাবার অসুস্থতা নিয়ে কথা বলা সহজ ছিল না মন্তব্য করে হেমসওয়ার্থ বলেন, “ভাবছিলাম, মানুষ কি আমাকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে আর বিশ্বাস করবে? এটা ছিল আমার বাবার জন্য ভালোবাসার চিঠি।”