১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিঠুন হাসপাতালে, চাননি ‘জানাজানি হোক’: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সিনেমা নির্বাচনে মিঠুন এখন বেশ সচেতন। তার ভাষ্য, এমন চরিত্রেই এখন অভিনয় করতে চান যা তাকে শিল্পী হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করবে।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 11:46 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

অসুস্থ হয়ে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। 

প্রথমে খবরটি চাপা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাকে দেখতে শুক্রবার হাসপাতালে যান, সেখানকার একটি ছবি প্রকাশ হলে ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে যায়।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতায় বাইপাসের ধারের ওই বেসরকারি হাসপাতালে হাতে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে ডিস্কো ড্যান্সার খ্যাত এই অভিনেতা। দুবছর আগে ওই হাতে চোট পেয়েছিলেন তিনি। তখনও হাতে একবার অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উনি বাংলার সম্পদ। তার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বাংলায় রাষ্ট্রবাদী সরকার আসার নেপথ্যে মহাগুরুর অবদান অনেক। ছোট্ট একটা অপারেশন হয়েছে। ভালো আছেন।” 

হাসপাতালে থাকার কথা জানাজানি হোক, মিঠুন তা চাননি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে পরে সোশাল মিডিয়ায় মিঠুন চক্রবর্তী সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন। দুয়েকদিনের মধ্যেই ছাড়া হতে পারে তাকে।   

বেশ কয়েকবছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন মিঠুন। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি।  পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও ক্ষমতাসীন বিজেপির হয়ে গত দেড়-দুইমাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালিয়েছেন মিঠুন। 

বাংলাদেশের বরিশালে জন্ম নেওয়া গৌরঙ্গ চক্রবর্তী পরে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ নামেই ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৯৭৬ সালে মৃণাল সেন পরিচালিত ‘মৃগয়া’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। প্রথম সিনেমাতেই তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পান।

পরে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমালেও শুরুটা খুব সহজ ছিল না। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৮২ সালে ডিস্কো ডান্সার মুক্তির পর বদলে যায় তার ক্যারিয়ারের গতি। সেই সিনেমার সাফল্যই তাকে উপমহাদেশজুড়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। পরে বলিউড অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে বিয়ে করেন মিঠুন।

গতানুগতিক ধারার বাইরের নাচে ৮০ এবং ৯০ এর দশকে বাংলাদেশ-ভারত দুই বাংলার দর্শকের রুচির পরিবর্তন আনতে ভূমিকা ছিল মিঠুনের। মিঠুনের নামের সঙ্গে জুড়ে আছে ‘ডিস্কো ডান্সার’।

এই অভিনেতা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ৩৭০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘তাহাদের কথা’ এবং ‘স্বামী বিবেকানন্দ’ সিনেমার জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

৭৫ বছর বয়সী মিঠুন এখন সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ সচেতন। তার ভাষ্য, এমন চরিত্রেই এখন অভিনয় করতে চান যা তাকে শিল্পী হিসেবে ‘আরও সমৃদ্ধ করবে’।