মাদক মামলা: ‘পায়ের ব্যথায়’ আদালতে যাননি পরীমনি, জামিন বাতিল চায় রাষ্ট্রপক্ষ
পরীমনির আইনজীবী আদালতকে বলেন, হঠাৎ পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তার চলাফেরায় অসুবিধা হচ্ছে। এ কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেননি।
চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বনানী থানার মাদক আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর দিন রেখেছে আদালত।
পরীমনির আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক রবিউল আলম শুনানির এই নতুন দিন ধার্য করে দেন।
মঙ্গলবার এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। পরীমনির পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) আদালতে হাজিরা দেন এবং শুনানি পেছানোর আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে পায়ে আঘাত পাওয়ার পর পরীমনি অসুস্থ ছিলেন। হঠাৎ পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তার চলাফেরায় অসুবিধা হচ্ছে। এ কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেননি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসেন ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি পরীমনির জামিন বাতিল করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার আবেদন করেন। একই সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে তার হাজিরা গ্রহণের আবেদনও বাতিলের দাবি জানান।
মোয়াজ্জম হোসেন বলেন, “মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য আছে। আসামি কয়েক বছর ধরে আদালতে না এসে সময় প্রার্থনা করছে, যা অগ্রহণযোগ্য। তার জামিন বাতিল করে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করছি।”
পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ রাখে।
মামলার অপর দুই আসামি পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু এবং তার খালু কবীর হোসেন হাওলাদার আদালতে হাজিরা দেন।
মামলা বৃত্তান্ত
২০২১ সালে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে তোলপাড় তুলেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার কয়েক দিনের মধ্যে ওই বছরের ৪ অগাস্ট তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মদ ও মাদক উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব।
পরে তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলাও করে র্যাব। এক মাস কারাগারে থাকার পর মুক্তি পান পরীমনি।
এরপর ওই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা আসামি পরীমনিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পরীমনিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ হয়।
অভিযোগ গঠনের পর মামলার বাদী র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মজিবর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। পরে মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন পরীমনি।
২০২২ সালের ১ মার্চ হাই কোর্ট পরীমনির ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করে। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটিতে আবার অভিযোগ গঠনের শুনানির কার্যক্রম শুরু হয়।
