সন্ধ্যার পর মাল্টিপ্লেক্স বন্ধ, চাপে ঈদের সিনেমার প্রযোজকরা
নির্মাতা–প্রযোজকরা বলছেন, ঈদের সিনেমার মূল দর্শকসমাগম ঘটে সন্ধ্যা ও রাতের শোগুলোতে, যা ‘প্রাইম টাইম’ হিসেবে বিবেচিত।
জ্বালানি সশ্রয়ে আগেভাগে বিপণি বিতান বন্ধ করার সরকারি নির্দেশনার কারণে মাল্টিপ্লেক্সগুলোর সন্ধ্যা ও রাতের শো বন্ধ হয়ে গেছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবারের ঈদের সিনেমাগুলোর নির্মাতা ও প্রযোজকেরা।
'দম' সিনেমার প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, 'বনলতা এক্সপ্রেসের' নির্মাতা তানিম নূর, 'দমের' পরিচালক রেদওয়ান রনি, 'প্রেশার কুকার' সিনেমার পরিচালক রায়হান রাফী, 'রাক্ষস' সিনেমার প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি এবং 'প্রিন্স সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা সই করেছেন ওই যৌথ বিবৃতিতে।
তারা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করলেও সিনেমা হলগুলো সন্ধ্যায় বন্ধ হলে তা চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য ‘বড় ধরনের ক্ষতির কারণ’ হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদের সিনেমার মূল দর্শকসমাগম ঘটে সন্ধ্যা ও রাতের শোগুলোতে, যা ‘প্রাইম টাইম’ হিসেবে বিবেচিত। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে অধিকাংশ দর্শক পরিবারসহ ওই সময়েই প্রেক্ষাগৃহে যান। ফলে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শো বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।
নির্মাতা ও প্রযোজকেরা অতীতের দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছেন। আগে মার্কেট নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমা হলগুলোকে সেই নিয়মের বাইরে রাখা হত। রাত ১০টা বা শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদর্শনী চালানোর অনুমতি থাকত এবং তাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ব্যবস্থা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকটি তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সিনেমা নির্মাণে প্রযোজকের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে, যার বড় অংশ ফেরত আসে উৎসবের এই সময়েই। পিক টাইমে হল বন্ধ থাকলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাতা ও প্রযোজকদের প্রধান দাবি সিনেমা হলকে সাধারণ দোকানের কাতারে না ফেলে মার্কেট বন্ধ থাকলেও আগের মত প্রদর্শনী চালু রাখার সুযোগ দেওয়া। তাতে দর্শকদের ঈদের আনন্দ যেমন পূর্ণতা পাবে, তেমনি প্রযোজকেরাও তাদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন:
