Published : 01 Sep 2025, 12:16 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিপক্ষে কিছুদিন আগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন দেশটির মডেল অভিনেত্রী কিম কার্দাশিয়ান। তার কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইসিই এর কৌশলনীতি ‘অমানবিক’। সেই ক্ষোভের পুনরাবৃত্তি দেখা গেল ভেনিসে ডিভিএফ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে।
ডেইলি মিল বলছে, কারাগার সংস্কারে অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন কার্দাশিয়ান। তবে পুরস্কার নিতে মঞ্চে ওঠার আগে কঠোর ভাষায় তিনি আক্রমণ করেছেন ট্রাম্পকে।
তবে ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে এই মডেলের। ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের বান্ধবী কার্দাশিয়ান ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখা করেছিলেন। সে সময় ফৌজদারি বিচার সংস্কার নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন কার্দাশিয়ান। পেয়েছিলেন সমর্থনও।
তবে কদিন আগে ইতালির ভেনিসে ডিভিএফ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অভিবাসন নিয়ে তার মতামত জানতে চাইলে কার্দাশিয়ান তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, “খবরের শিরোনামে লেখা হয়, এটা অপরাধীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু বাস্তবে যেসব শ্রমজীবীরা আমাদের দেশ গড়ে তুলেছেন, যারা সত্যিকারের এই দেশের অংশ, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা আমার চেনা মানুষ, আমার বন্ধুদের চেনা মানুষ। আপনারা সবাই তাদের চেনেন। তারা উন্নয়নের অংশীদার।”
‘আইসিই’ অভিযান নিয়ে সরকারের ভাষ্যে, এটি চলছে মূলত অপরাধীদের বিরুদ্ধে। তবে কার্দাশিয়ান তা মানতে নারাজ।
এই মডেলের ভাষ্য, “আপনি হয়ত বিশ্বাস করতে চান যে সরকারের সুরক্ষার মধ্যে শক্তিশালী বার্তা আছে। কিন্তু তারপর আপনি যা দেখতে পাবেন সেটি আসলে ঘটছে না।
“এটা সত্যিই কঠিন, কিন্তু আমি মনে করি যারা আমাদের দেশকে সত্যিই সমর্থন করেছেন এবং গড়ে তুলেছেন তাদের রক্ষা করার জন্য আমাদের যা করা উচিত তা করতে হবে।
“কিন্তু যখন আমরা দেখি যে নিরীহ, পরিশ্রমী মানুষদের তাদের পরিবার থেকে তাদেরকে অমানবিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন আমাদের কথা বলতে হবে। আমাদের যা সঠিক তা করতে হবে।”
কার্দাশিয়ান আরও বলেন, “লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়ে ওঠার পর, আমি দেখেছি যে অভিবাসীরা এই শহরের কাঠামোর সাথে কতটা গভীরভাবে মিশে আছেন।”
অভিবাসীরা কার্দাশিয়ানের কাছে ‘প্রতিবেশী, বন্ধু, সহপাঠী, সহকর্মী এবং পরিবার’।
নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে কার্দাশিয়ান বলেন, “আমাদের সম্প্রদায়গুলি অভিবাসীদের অবদানের কারণেই সমৃদ্ধ হয়। ভয় এবং অবিচার যখন মানুষকে স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদে জীবনযাপন করতে বাধা দেয় তখন আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না।”
কার্দাশিয়ান কয়েক বছর ধরে অপরাধ বিচার সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত আছেন। চলতি বছরের মে মাসে চার বছরের ‘ল অফিস স্টাডি প্রোগ্রাম’ শেষ করেছেন তিনি। এছাড়া জুলাইয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি, এখন আছেন ফলাফলের অপেক্ষায়।
এর আগে র্যাপার ক্রিস ইয়াংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্ত করতে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন তিনি। ইয়াং মাত্র ২২ বছর বয়সে ‘সামান্য মাদক অপরাধে’ গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড পান। কার্দাশিয়ানের প্রচেষ্টায় ট্রাম্প ২০২১ সালে ওই তরুণের সাজা কমিয়ে দিয়েছিলেন।