০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বাথরুমটাই ছিল সবচেয়ে…’ জেলজীবনের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে সালমান

কারাগারে সালমানের কয়েদি নম্বর ছিল ১০৬।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 11:10 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:34 PM

বলিউডি অভিনেতা সালমান খানকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল দু্ই দফায় কয়েকদিন। তার বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ছিল।

রাজস্থানের যোধপুর কারাগারে ছিলেন সালমান। সেখানে ৫০ একে ৭০ জন কয়েদির জন্য ছিল একটি মাত্র শৌচাগার। সেটিও্ সাবেকি ধরনের। কারাবাসের দিনগুলোয় তেমন একটা ‘মানসিক চাপে না থাকলেও’ শৌচাগার ব্যবহারকেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন সালমান। 

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’ জানিয়েছে রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ গিয়েছিলেন সালমন খান। সেখানে প্রতিযোগীদের সঙ্গে নানা কথা বলার ফাঁকে উঠে আসে জেলজীবন প্রসঙ্গ।

সালমান বলেন, “বহু বছর আগে যখন জেলে গিয়েছিলাম, তখন লোহার গরাদ ছিল। খুব ছোট্ট একটি জায়গায় ৫০ থেকে ৬০ বা ৭০ জন থাকতেন। 

“একটি মাত্র শৌচাগার ছিল। সেটাও ভারতীয় সাবেকি কায়দায় তৈরি। কখনও সেখানে টিকটিকি দেখা যেত। নোংরা অস্বস্তিকর পরিবেশ। তার উপর নোংরায় জায়গাটা ভরে থাকত।”

পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে রাজস্থানের যোধপুর কারাগারে সালমানকে যেতে হয়েছিল ২০১৮ সালে, তবে জামিন মিলেছিল কয়েকদিন পরেই। এর আগে ২০০৬ সালেও ওই ঘটনা সম্পর্কিত একই মামলায় কারাগারে পাঁচ রাত কাটাতে হয়েছিল তাকে।

পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে রাজস্থানের যোধপুর কারাগারে সালমানকে যেতে হয়েছিল ২০১৮ সালে, তবে জামিন মিলেছিল কয়েকদিন পরেই। এর আগে ২০০৬ সালেও ওই ঘটনা সম্পর্কিত একই মামলায় কারাগারে পাঁচ রাত কাটাতে হয়েছিল তাকে।

মামলার অভিযোগ ছিল, ১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ে যোধপুরের কোঙ্কনি গ্রামে গিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনে বিরল প্রজাতির দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেছেন তিনি।ওই সফরে সালমানের সঙ্গী অভিনেতা সাইফ আলী খান এবং অভিনেত্রী টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলম কোঠারিকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছিল। তবে ‘পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে’ রায়ে বিচারক তাদের খালাস দেন।

কারাগারে সালমানের কয়েদি নম্বর ছিল ১০৬।

আদালতের রায়ে বন্দি হওয়ার পর কারাগারের খাবার না খেলেও এই অভিনেতা শরীরচর্চায় ক্ষান্ত দেননি কারাবাসেও।

কারাগারে থাকার প্রথম দিন সন্ধ্যায় সালমান ঘণ্টা খানেক শরীর চর্চা করেন বলে কারাধ্যক্ষ বিক্রম সিং জানিয়েছিলেন। রাতে জেলের খাবার খাননি সালমান। খানিকটা অস্থিরতার পর ঘুমান মেঝেতে কম্বল বিছিয়ে।

কারাধ্যক্ষ বিক্রম সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছিলেন, চিকিৎসক ডাকা হবে কী না সেটি নায়কের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন ‘প্রয়োজন নেই’।

“মাঝরাতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেলখানার সাইরেন বেজে উঠলে তার ঘুম ভাঙে। তবে এরপর আবার ঘুমিয়ে পড়েন তিনি, ওঠেন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে।”

পরদিন সকালে উঠে সালমান নাশতা করেননি জানিয়ে বিক্রম সিং বলেছিলেন, তিনি কারারক্ষীর কাছে জানতে চান, ক্যান্টিন থেকে তার জন্য খাবার আনা যাবে কি না?

“এরপর তিনি দুধ ও রুটি আনতে বললে তা আনা হয় তার জন্য। দুধ-রুটি খেয়ে শারীরিক কসরতে মন দেন এই অভিনেতা, সেলের ভেতরে হাঁটাহাঁটিও করেন তিনি। তবে দুপুরে তিনি খাননি।"

এছাড়া দ্বিতীয় দিন বিকালে বোন বোন অর্পিতা এবং অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা দেখা করেন সালমানের সঙ্গে। দুপুর থেকে অভুক্ত থাকার পর বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ফের শরীর চর্চা শুরু করে কারারক্ষীদের তাক লাগিয়ে দেন তিনি।

বিক্রম সিংয়ের ভাষ্য, “তিনি সত্যিই টাফ ম্যান, কারাগারে বন্দিরা যে পানি পান করেন, সালমানও সেটিই খেয়েছেন।”

এরপর সালমান গোসল করতে চাইলে কারারক্ষীরা সেই ব্যবস্থাও করে দেন।

সামলানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া এই হরিণ শিকারের ঘটনার জেরে মাথার ওপর গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের খুনের হুমকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে সালমানকে।

হরিণ শিকারের ‘বদলা নিতে’ ২০১১ সালে ‘রেডি’ সিনেমার শুটিংয়ের মাঝে সালমানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন লরেন্স বিষ্ণোই। যে হুমকি এবং চেষ্টা এখনো চলমান বলে ভাষ্য সালমান এবং মুম্বাই পুলিশের। এর মধ্যে সালমানকে খুনের চেষ্টার ঘটনা কয়েকবার সামনে এনেছে মুম্বাই পুলিশ। হত্যার উড়ো চিঠি দিয়েও সালমানের শত্রুরা চুপ থাকেননি, বান্দ্রায় তার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দার দিকে গুলিও ছোড়া হয়। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর থেকে বাড়ানো হয়েছে সালমানের নিরাপত্তাও।

বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ কৃষ্ণসার বা চিংকার হরিণকে পবিত্র বলে মনে করে, বলতে গেলে তারা পূজা করে।

যদিও যে কৃষ্ণসার হরিণ ‘শিকার’ নিয়ে সালমান খান গ্যাংস্টার লরেন্সের রোষানলে, সেই কাজটি নায়ক ‘করেননি’ বলে দাবি করেছেন তার বাবা চিত্রনাট্যকার সেলিম খান।

পুরনো খবর

জেল জীবনে সালমান যা করতেন