গানে-সুরে ছুটছে ডাবল ইঞ্জিনের ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’
স্ত্রীর সঙ্গে গানের এই যাত্রাকে জয় নাম দিয়েছেন ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’।
কলকাতার সংগীত শিল্পী দম্পতি লোপামুদ্রা মিত্র এবং জয় সরকারের প্রেম-পরিণয় শুরু গানে-সুরে। সেই সুর-গানকে সঙ্গী করে ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তারা একসঙ্গে নিয়মিত কনসার্ট করেছেন। পরে আসে দীর্ঘ বিরতি। তবে এই দম্পতি ফের কনসার্টে আসছেন গত বছর থেকে। কেবল ভারত নয় যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন ও জার্মানিতেও তারা শো করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে গানের এই যাত্রাকে জয় নাম দিয়েছেন ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’। জার্মানির মিউনিখের কনসার্টের কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ব্যক্তি ও গানের ভুবনের এই সহযাত্রীকে নিয়ে এক সংগীতের দীর্ঘ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন জয়।
জয় বলেছেন, মহামারীর লকডাউন জীবনের সময় তিনি এবং লোপা মিলে ঠিক করেছিলেন, বেঁচে থাকলে বাকি জীবনটা যতটা সম্ভব নিজেদের পছন্দমত কাটাবেন তারা। আর সেই পরিকল্পনায় একদম শুরুর দিকে ছিল আবার একসঙ্গে মাঝেমধ্যে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা। এভাবেই জয়-লোপার যৌথ গানের যাত্রা ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’ শুরু হয়েছে বছরখানেক হল।
পছন্দের গানবাজনা, আড্ডা আর সঙ্গে গান তৈরির গল্পই হল ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’র গড়ে তোলার মূল কারণ। জয় বলেন, “গত বছর মে মাসে টরন্টো শহর থেকে আমাদের এই সাধের ডাবল ইঞ্জিন গাড়ি ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’ যাত্রা শুরু করে, এরপর যুক্তরাষ্ট্র। এবার লন্ডন আর মিউনিখ, এই দুটো স্টেশনে স্টপেজ দিয়ে কয়েকটি আগে ডাবল ইঞ্জিন দেশে ফিরেছে।”
লন্ডন ও মিউনিখের দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জয় বলেন, “দুটো শহরেই ভালোবাসা, সম্মান আর আতিথেয়তায় আমরা আপ্লুত। যেভাবে তিন দশক আগে রেকর্ড করা বেণীমাধবের জন্যে লোপাকে এখনও মানুষ দাঁড়িয়ে পাঁচ মিনিট ধরে হাততালি দেয় আর ‘বৃষ্টি পায়ে পায়ে’-তে আমার সাথে গলা মেলায় সারা প্রেক্ষাগৃহ…মনে হয় এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে আমাদের।
জয়ের কথায় জানা গেল, ২০০৭ সালের পর তিনি সংগীত পরিচালনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আর লোপাও নিজের একক গানেই মন দেন। কিন্তু কাজের একঘেঁয়েমি ধীরে ধীরে গ্রাস করে তাদের। “আমরা প্রবলভাবে মিস করতাম একসঙ্গে মঞ্চে থাকার সেই উত্তেজনা, ভালো লাগা, পারফরম্যান্স শেষে ভাগ করে নেওয়া করতালির আওয়াজ।”
মিউনিখে দুটি অনুষ্ঠানে ‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’র গানের সঙ্গে কলকাতার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং বার্লিননিবাসী নৃত্যশিল্পী শুভম মুখোপাধ্যায়ও পারফর্ম করেন।
পরের গন্তব্য নিয়ে জয় আরও লিখেছেন, “‘লোপা-জয় এক্সপ্রেস’ এখন আপাতত কার শেডে। আমরা আগামী কয়েক মাস যে যার জমিতে চাষ করব, ফসল ফলাব। পরবর্তী সফরের দিন ঠিক হলে অবশ্যই জানাব।”
