১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যদি গানগুলো নতুন করে গাওয়ার সুযোগ পেতাম: জন্মবার্ষিকীতে খুরশীদ আলম

খুরশীদ আলম বলেন, "আমার জন্মদিন তো সবসময় নীরবেই পালিত হয়। কখনোই ঘটা করে পালনের অভ্যাস নেই।"

যদি গানগুলো নতুন করে গাওয়ার সুযোগ পেতাম: জন্মবার্ষিকীতে খুরশীদ আলম
খুরশীদ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 02:01 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

‘চুমকি চলেছে একা পথে’র মত বহু জনপ্রিয় গানের শিল্পী খুরশীদ আলম। একশ, দুইশো নয়, প্রায় সাড়ে ৪০০ সিনেমায় গান করা এই শিল্পী এখনো গাইছেন। 

প্লেব্যাক না করলেও বিভিন্ন টেলিভিশন স্টেশনে গানের অনুষ্ঠানে পাওয়া যায় এই শিল্পীকে। পাশাপাশি একক বা দ্বৈত নতুন গানও গাইছেন তিনি।

তিনি এখনো উচ্ছ্বল, তার শিল্পীজীবনের প্রাপ্তিও অনেক। শনিবার এই সংগীতশিল্পীর ৮১তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে গ্লিটজের সঙ্গে জন্মদিন ও বর্তমান সময় নিয়ে কথা বলেছেন একুশে পদক পাওয়া খুরশীদ আলম। 

জন্মবার্ষিকীতেও কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ঘটা করে উদযাপনের পরিকল্পনা নেই তার। পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে প্রতি বছরের মত এবারও দিনটি কাটাবেন বলে জানিয়েছেন।

জীবনের এতগুলো দিন, সময় পেরিয়ে আসার পর পেছনে ফিরে তাকালে প্রথম কোন স্মৃতিটা মনে পড়ে প্রশ্নে গ্লিটজকে তিনি বলেন, "আগের গানগুলো নতুন করে গাওয়ার সুযোগ পেলে হয়ত আগের চেয়ে আরও ভালো গাইতে পারতাম।"

জন্মদিনের পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, "আমার জন্মদিন তো সবসময় নীরবেই পালিত হয়। কখনোই ঘটা করে পালনের অভ্যাস নেই। এবারেও দিনটিও খুব সাধারণভাবে কাটবে।"

পারিবারিক বড় কোনো আয়োজন না থাকলেও সংবাদমাধ্যমের ভালোবাসায় কাটবে তার বিশেষ দিনটি। 

খুরশীদ আলম

খুরশীদ আলম

তিনি বলেন, "দুপুরে জন্মদিন ঘিরে একটি চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’ এ থাকব। সেখানে হয়ত সবার ভালোবাসায় উদযাপন হবে। সেখানে একটা পুরস্কার দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আমার ওপর বানানো প্রামাণ্যচিত্রটি দেখাবে। 

“শাইখ সিরাজ নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ দেখা যাবে।  এবারের জন্মদিন ঘিরে বেশ আলোচনা, সবাই এখন বিষয়টি জানতে পারছে এই প্রামাণ্যচিত্রের উদ্যোগে। "

জীবনের কোন সময়টি সবচেয়ে বেশি মনে দাগ কেটে আছে জানতে চাইলে, গানের প্রতি ভালোবাসার কথাই তুলে ধরেন তিনি।।

স্মৃতিচারণ করে খুরশীদ আলম বলেন, "আমাদের সময় প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। আমরা এক মাইকে গান করতাম। একটা গান পারফেক্ট না হলে দশবার গাইতে হত। এখন তো প্রযুক্তির অনেক পরিবর্তন হয়েছে।"

স্মৃতি ও আক্ষেপ মিশিয়ে তিনি আরও বলেন, "এখন মনে হয়, যদি এই আধুনিক যুগে এসে আবার গানগুলো নতুন করে গাওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলে হয়তো আরও অনেক ভালো করে গাইতে পারতাম। কিন্তু এখন তো আর তা সম্ভব নয়। এখন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সুযোগ অনেক, এক বার গেয়েই গান তুলে ফেলতে পারে।"

চলচ্চিত্র ও আধুনিক গানের শিল্পী হলেও খুরশীদ আলমের শুরুটা হয়েছিল রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। চাচা আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের কাছে তার প্রথম গান শেখা।

ষাটের দশকের শুরুতে খুরশীদ আলম গাইতেন রবীন্দ্রসংগীত; ১৯৬৫ সালে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজে প্রথম গেয়েছিলেন রবীন্দ্রসংগীত। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই রেডিওতে আধুনিক গানের শিল্পী হওয়ার জন্য অডিশন দেন। 

এরপর ১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ সিনেমায় প্রথম প্লেব্যাক তার, আর সেই থেকে শুরু।

‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’ ‘অনন্ত প্রেম’,‘যদি বউ সাজো গো, আরও সুন্দর লাগবে গো’, ‘মাগো মা’ এমন বহু জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি।

তার গাওয়া গানে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছেন বাংলা সিনেমার নায়করাজ রাজ্জাক থেকে শুরু করে ওয়াসিম, জাভেদ, মাহমুদ কলি, আলমগীর, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল রানা, বুলবুল আহম্মেদসহ প্রায় সব জনপ্রিয় নায়ক।