১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

৯০তম জন্মবার্ষিকীতে টিভির পর্দায় ‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’

অনুষ্ঠানে মুস্তাফা মনোয়ারের জীবন ও কর্ম নিয়ে কথা বলবেন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন।

৯০তম জন্মবার্ষিকীতে টিভির পর্দায় ‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’
‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’ অনুষ্ঠানে আফজাল হোসেন, মনিরুল ইসলাম ও মুস্তাফা মনোয়ার। ছবি: চ্যানেই আইয়ের সৌজন্যে।

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2025, 11:07 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:13 PM

চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের জন্মদিন ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’।

সোমবার এই শিল্পীর ৯০তম জন্মবার্ষিকী। এদিন চ্যানেল আইয়ে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে দেখা যাবে ‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন অনন্যা রুমা।  

অনুষ্ঠানে মুস্তাফা মনোয়ারের জীবন ও কর্ম নিয়ে কথা বলবেন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং নির্মাতা, অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন।

‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’ অনুষ্ঠানের দৃশ্য। ছবি: চ্যানেই আইয়ের সৌজন্যে।      

‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’ অনুষ্ঠানের দৃশ্য

জন্মদিনে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারেরর ইচ্ছে অনুযায়ী শতাধিক পাখিকে খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিল্পীকে গান শোনাবেন একদল শিশু শিল্পী।

অনুষ্ঠানে শিল্পীর আঁকা কিছু দুর্লভ ছবিও দেখানো হবে।

মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে। তার বাবা কবি গোলাম মোস্তফার পৈত্রিক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। পাঁচ বছর বয়সে মা জমিলা খাতুন মারা যান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পড়াশোনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। 

১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।

মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’ অনুষ্ঠানের দৃশ্য। ছবি: চ্যানেই আইয়ের সৌজন্যে।    

‘আমাদের মুস্তাফা মনোয়ার’ অনুষ্ঠানের দৃশ্য

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক পাওয়া এই শিল্পী বর্ণিল কর্মজীবনে আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পদক, ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কর্তৃক কিডস সম্মাননা পদক, ২০০২ সালে চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।