Published : 29 Dec 2025, 12:47 PM
দেড় দশক বাদে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার আলোচনায় কন্যা জাইমা রহমানের পোষা বিড়াল নিয়েও চর্চা কম নয়।
বৃহস্পতিবার তারেক পরিবার দেশে ফেরার পর তার পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠা ‘জেবু’রও বাংলাদেশে আসার ঘটনা সংবাদের শিরোনাম হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রাণিপ্রেমীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে চলেছেন।
এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারেককন্যা জাইমা। সোমবার সকাল ১০টায় ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন, “জেবুকে ঘিরে এত কৌতূহল দেখে আমি কিছুটা অবাক, আবার মজাও পাচ্ছি। ভাবছি, ও যদি বিষয়টা বুঝতে পারত!”
চলতি বছরের এপ্রিলে জেবুর সঙ্গে নিজের তোলা তিনটি ছবি ফেইসবুকে প্রকাশ করেছিলেন তারেক। ওই ছবিতে প্রকাশ পায়, হাতে ধরা মোবাইলে তিনি কিছু একটা দেখাচ্ছিলেন জেবুকে; আর পোষ্যও দেখছিল নিবিষ্টমনে।
গেল অক্টোবরে বিবিসি বাংলাকে বিএনপি নেতার দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেবু প্রসঙ্গও ওঠে। মেয়ের পোষা বিড়াল কীভাবে পরিবারের আদুরে হয়ে উঠল, সে কথা বলছিলেন তিনি।
“এখানে একটু ক্লিয়ার করে নিই, বিড়ালটি আমার মেয়ের বিড়াল। ও এখন অবশ্য সবারই হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই ওকে আদর করি।”
গত শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডিতে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তারেক রহমান কয়েক ঘণ্টা অবস্থানকালেও বিড়ালদের সঙ্গে সময় কাটান, যার একটি ছবি ফেইসবুকে প্রকাশ করেছে বিএনপি মিডিয়া সেল।
যুক্তরাজ্যের বাসায় জেবু যেভাবে সময় কাটাত, সেই দিনলিপি তুলে ধরতে গিয়ে জাইমা লিখেছেন, “সন্ধ্যায় আব্বুর অনলাইন মিটিংগুলো শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর কোলে গুটিশুটি মেরে বসে থাকত, মাথায় হাত বুলানোর আদর উপভোগ করত।
“আর আমার ক্ষেত্রে, জেবু যেন সব সময় আমার মনের অবস্থা বুঝে ফেলত; তার ছোট্ট পা আর কোমল ছোঁয়া দিয়ে যেভাবে পারে সেভাবেই সঙ্গ দিত।”
যেকোনো প্রাণীকে লালন-পালন করা মানেই বড় দায়িত্ব নেওয়া মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “কারণ, প্রাণীও একটা জীব, আল্লাহর সৃষ্টি। জেবুকে যখন প্রথম ছোট্ট বিড়ালছানা হিসেবে বাসায় এনেছিলাম, তখন ভাবিনি, সে আমাদের পরিবারের এত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে যাবে।
“এমনও হয়েছে, আমার আব্বু-আম্মু বাসায় ফিরে আগে জেবুর খবর নিয়েছেন, তারপর আমার! আম্মু যখন বাগান করতেন বা পাড়ায় হাঁটতে যেতেন, জেবু তাঁর চারপাশে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরত।”
যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আনা জেবুকে যে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে, সেই বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছেন জাইমা রহমান।
তিনি লিখেছেন, “যাঁরা প্রাণী পোষেন, তারা জানেন, পোষা প্রাণী নিয়ে বাসা বদলানো কতটা কঠিন। জেবু এখন মহাদেশ পেরিয়ে একেবারে নতুন একটা দুনিয়ায় এসেছে।
“ওর ছোট্ট প্রাণটার জন্য এই পরিবর্তনটা অনেক বড় আর কষ্টের, যেটা আমরা পুরোপুরি বুঝতেও পারি না।”
প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশ যে মানুষের জানা ও বোঝাপড়া তৈরি হওয়ার বড় জায়গা, সেই প্রসঙ্গও টেনেছেন জাইমা।
তার কথায়, “জেবুর মাধ্যমে আমাদের অনেকেই ধৈর্য শিখেছে, বড়-ছোট সব প্রাণীর প্রতি মমতা শিখেছে, আর ভাষা এক না হলেও একে অন্যকে ভালোবাসা আর যত্ন নেওয়ার সৌন্দর্য বুঝেছে। কারণ ভালোবাসা তো প্রজাতির সীমা মানে না।
“আমরা ছোটবেলা থেকেই পশু-পাখির সঙ্গে বড় হয়েছি। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, মানুষ অন্য কোনো জীবের দায়িত্ব নেওয়ার সৌভাগ্য পায়, সে নিজের সম্পর্কে অনেক বেশি কিছু শিখে ফেলে, যা সে হয়তো কল্পনাও করেনি।”
জেবু সম্পর্কে ‘মজার তথ্য’ দিতে গিয়ে জাইমা লিখেছেন, “ও কখনো ‘মিউ মিউ’ করে না! একদমই না। আলমারিতে আটকে গেলেও না। বরং খুশি বা অবাক হলে পাখির মতো নরম করে ডাক দেয়।
“অনুমতি ছাড়া কোলে নিলে হালকা বিরক্তিতে গোঁ গোঁ করে। আর যেসব বিড়াল ওর পছন্দ না, তাদের দিকে কিন্তু বেশ জোরেই চিৎকার করে!”