‘অহেতুক’ বিদেশ ভ্রমণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রকল্পে ঋণকে আর ‘প্রকল্প সহায়তা’ না বলার নির্দেশনাও দিয়েছেন সরকার প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তাদের ‘অহেতুক’ বিদেশ ভ্রমণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে দেশে ডলারের সংকটের মধ্যে সরকার প্রধানের এমন নির্দেশ এল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি বার্তা দিয়েছেন। একটি হচ্ছে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ‘উই মাস্ট ফিল সেল্ফ রেসপেক্টস’। নিজের আত্মসম্মান নিজের সমুন্নত রাখতে হবে। এটা দেশের প্রতি আহবান এবং আমাদের জন্য নির্দেশ।”
জনগণের অর্থ ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতা বজায় রাখার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন জানিয়ে মান্নান বলেন, “ব্যয় বন্ধ করা হবে না, ব্যয় বন্ধ করলে অর্থনীতি বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের অবশ্যই ব্যয় করতে হবে। কিন্তু যেখানে যতটা দরকার ততটাই করা যাবে।
“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অহেতুক স্পেন্ডিং, আয়েশি স্পেন্ডিং, বিলাসী স্পেন্ডিং বিলাসী মনোভাব পরিহার করতে হবে।”
বৈঠকে আলোচনায় মন্ত্রী-আমলাদের বিদেশ সফরের বিষয়টিও আসে।
“তখন (প্রধানমন্ত্রী) বলা হয়, অহেতুক ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে। ইতোমধ্যে এবং অলরেডি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামীতে আরও নিরুৎসাহিত করা হবে,” বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
মহামারীর মধ্যে ইউক্রেইন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে, যার ফলে বাংলাদেশকেও ভুগতে হচ্ছে। এরই মধ্যে রিজার্ভে চাপ পড়েছে, যে কারণে আমদানিতে রাশ টানতে হচ্ছে সরকারকে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন বাজার খোঁজার উপর জোর দেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান।
“তিনি বলেছেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগের যেসব জায়গায় যেসব গিঁট আছে, সেগুলো ছাড়াতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমাদের সার্বক্ষণিক কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।”
প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা নামে যে ঋণ থাকে, তাতে আর ‘প্রকল্প সহায়তা’ না বলে ‘প্রকল্প ঋণ’ হিসেবে দেখানোর নির্দেশনাও প্রধানমন্ত্রী দেন বলে জানান মান্নান।
“আজকে থেকে প্রকল্প সহায়তার পরিবর্তে ‘প্রকল্প ঋণ’ হিসেবে প্রতিস্থাপন হয়ে গেল। খুব কম হলেও বিদেশিরা আমাদের কিছু অনুদান হিসেবে কিছু সহায়তা দেন। সেগুলোকে সহাতা বলুন। কিন্তু ঋণকে ঋণই বলুন।”
