বৈশ্বিক অর্থনীতি বিবেচনায় ভালো করছে বাংলাদেশ: মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবদিক থেকেই বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মহামারী এবং ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো অবস্থানে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 12:30 PM
Updated : 26 July 2022, 12:30 PM

মহামারী ও ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে আছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আরও ভালো করতে চায় বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার উন্নয়নশীল ৮টি দেশের জোট আয়োজিত ‘ডি-৮সিসিআই বিজনেস ফোরাম অ্যান্ড এক্সপো ২০২২’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্থাটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে্ এদিন রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ওয়েসিস হলে দুই দিনের এই অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডি-৮ মিনিস্ট্রিয়াল-এর চেয়ারম্যান এ কে আব্দুল মোমেন দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির বিষয়ে বলেন, “বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করলে বাংলাদেশ ভালো করছে।

“উৎপাদন, শিল্প, সেবা, কৃষি, রপ্তানি তথা জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সবদিক থেকেই বাংলাদেশ এই করোনা মহামারী এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো অবস্থানে আছে। আরও ভালো করতে চায় বাংলাদেশ।”

ডি-৮ এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি হলো বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক। সদস্য দেশগুলো থেকে ৪০ জনের বেশি প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অর্থনৈতিক এই জোটের সদস্য দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে আমরা আরও বহুদূর যেতে পারব।

“আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি, আমরা যদি একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করি, তাহলে ডি-৮ দেশগুলির মাঝে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ আগামী ১০ বছরে বেড়ে গিয়ে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন হবে।”

সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কাঁচামাল থেকে পণ্যের উৎপাদন এবং গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা বা ‘ভ্যালু চেইন’ সংহত করতে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করা এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

কোভিড-১৯ মহামারির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি মোকাবেলা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে সাড়া দেওয়ার অংশ হিসেবে, কৃষি খাত, উৎপাদন খাত, টারশিয়ারি ও কোয়াটার্নারি খাতের জন্য এই রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানের প্রথমদিন ৬টি ক্ষেত্রের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য রোডম্যাপ এবং এসবের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় দিন ডি-৮ এর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হবে।

পরবর্তীতে আলোচিত সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে।

প্রথমদিনের আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো হল-

১. সাপ্লাই চেইনে অস্থিরতা কমিয়ে আনা এবং নিরাপদ জীবিকা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদে ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশন।

২. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দুর্বলতা মোকাবেলার জন্য ক্রস কারেন্সি সোয়াপ, বার্টার এবং ব্লকচেইনের মতো বিকল্প বাণিজ্য, অর্থ ও বাণিজ্য সুবিধা প্রদান প্রক্রিয়া।

৩. নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার চিহ্নিত করতে প্রক্রিয়া স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন এবং সমন্বয়।

৪. বৃহত্তর পরিসরে আন্তঃডি-৮ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অবদানের সুযোগ তৈরিতে ডি-৮ প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে উদ্যোক্তাদের জন্য ডি-৮ ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা।

৫. দীর্ঘমেয়াদী ডি-৮ ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশনে সহায়তার লক্ষ্যে ডি-৮ কম্প্রিহেনসিভ ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (ডি৮ সিইসিএ)-এর জন্য কন্টিনজেন্সি ম্যাপিং, বিশ্বজুড়ে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা গ্লোবাল স্ট্যাগফ্লেশনের ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনা।

৬. অর্থনৈতিক খাতের সাইবার সিকিউরিটি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি’তে প্রযুক্তির ব্যবহার।

৭. টেকসইতা, সার্কুলার ইকোনোমি, শি-ট্রেডস, এমএসএমই, স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম, ইনোভেশন, গ্রিন টেকনোলজি, ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং ব্লু ইকোনমিকে ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশন বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা ৷

দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপো জোন-এ ‘বিল্ড ইন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এ বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য স্টল করা হয়। এছাড়া সদস্য দেশগুলো তাদের স্টলগুলিতে বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেছে।

ইন্দোনেশিয়ার স্টলে দেখা যায় লাক্সারি বাস, ট্রেন, যুদ্ধ জাহাজ, ট্যাংক, উড়োজাহাজ ও সাবমেরিন। ইরান তুলেছে বিস্কুট ও প্যাকেটজাত খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী। পাকিস্তানের স্টলেও মসলাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পণ্য রাখা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং ডি-৮-এর সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমাম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক