Published : 07 Oct 2024, 07:33 PM
নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে 'প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা' ও দুর্নীতিকে বেসরকারি উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সামনে তুলে ধরেছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার বেসরকারি উন্নয়ন খাতের অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক শেষে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এ খাতের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, "বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে এবং সংহতভাবে করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উনারা (এনজিও) দেখছেন বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা এবং তার ভেতরে দুর্নীতি।
"সেই দুর্নীতি এবং প্রতিবন্ধকতা অনেক সময় ইচ্ছাকৃত এবং অনেক সময় সরকারের নীতির কারণে।"
সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মোট ৭৮ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
দেবপ্রিয় বলেন, "এটার (বাধার) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বেসরকারি উন্নয়ন খাতের প্রতিষ্ঠানকে দেখভালের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত যে প্রতিষ্ঠান আছে, তার নাম তারা উল্লেখ করেছেন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের কথা বলেছেন। উনারা আইন শঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কথা উল্লেখ করেছেন। উনারা সরকারি যেসব এজেন্সি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের কথা বলেছেন।
এমনকি বিদেশে সরকারের যেসব দূতাবাস রয়েছে, তাদের ভূমিকা নিয়েও এনজিও প্রতিনিধিরা 'উষ্মা' প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।
কমিটির সভাপতি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক, এমনকি স্বাধীনতা পরবর্তী উন্নয়নে এনজিওগুলো তাদের অবদানের স্বীকৃতি চায়।
“নারী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধ বিদ্বেষমূলক প্রচার হয়, তা উন্নয়নের পথে বাধা বলে মনে করেন এনজিওগুলো। এই সব বিষয় শ্বেতপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
এ বিষয়ে সরকারের করণীয় কী সেটাও শ্বেতপত্রে থাকবে বলে জানান তিনি।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরতে গত ২৮ অগাস্ট দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
শ্বেতপত্রে সরকারি পরিসংখ্যানের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা; সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ; জিডিপি প্রবৃদ্ধির পর্যালোচনা; মূল্যস্ফীতির ধারা এবং তার অভিঘাত; দারিদ্র্য, অসমতা ও বিপন্নতা; অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ; সরকারি ব্যয় বরাদ্দে অগ্রাধিকার মূল্যায়ন; বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
এ ছাড়া ঋণ ধারণ ক্ষমতা, মেগা-প্রকল্পসমূহের মূল্যায়ন, ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত অবস্থা; জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিস্থিতি; ব্যবসা-পরিবেশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ; অবৈধ অর্থ ও তার পাচার; শ্রমবাজারের গতিশীলতা এবং যুব কর্মসংস্থান; বৈদেশিক শ্রমবাজার ও প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার বিষয়েও উঠে আসবে বলে কমিটির তরফে জানানো হয়েছে।