Published : 06 Oct 2025, 11:52 PM
গ্রাহকের কিস্তির টাকা বিনিয়োগ করে গত এক বছরে ১৬ কোটি ৩৩ লাখ চার হাজার ২৩ টাকা মুনাফা করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় মুনাফাসহ অন্যান্য অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
পেনশন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। পেনশন পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভার আলোচ্য সূচির বরাত দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেনশন স্কিমে জমা অর্থ থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ৩৩ লাখ ৪ হাজার ২৩ টাকা ৭৭ পয়সা।
মুনাফার এই পরিমাণ পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদিত হওয়ায় বিনিয়োগ সময়কালের ভিত্তিতে হিস্যা অনুযায়ী বিনিয়োগ মুনাফা বিনিয়োগকারীদের পেনশন হিসাবে জমা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রাহকরা তাদের পেনশন আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রাপ্ত মুনাফার পরিমাণ দেখতে পারবেন।
বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফা প্রাপ্তির হার ছিল ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
অবশ্য মুনাফার খাতগুলো বিস্তারিত জানায়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে বন্ডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে পেনশন স্কিমের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।
গ্রাহকের ধরন ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে পেনশন স্কিমকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হল- প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী স্কিম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য প্রগতী স্কিম, স্বকর্ম ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের জন্য সুরক্ষা স্কিম এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চালু করা হয় সমতা স্কিম।
২০২৩ সালের অগাস্টে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ চালু করে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এমন উদ্যোগে স্বায়ত্তশাষিত প্রতিষ্ঠান ও ইউনিভর্সিটি যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও তারা এগিয়ে আসেননি। ফলে শুরু থেকেই চার স্কিম নিয়ে চলছে জাতীয় এই কর্মসূচি।
সুরক্ষা স্কিমে কিস্তির হার বৃদ্ধি
স্বকর্মে নিয়োজিতদের জন্য সুরক্ষা স্কিমে বর্তমানে সর্বোচ্চ কিস্তির হার ৫ হাজার টাকা।
অর্থমন্ত্রণালয় বলছে, এই স্কিমে যেমন নিম্ন আয়ের লোক রয়েছেন, তেমনি উচ্চ আয়ের লোকও রয়েছেন। উচ্চ আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রগতি পেনশন স্কিমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুরক্ষা স্কিমে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা কিস্তি জমার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন করেছে।
পাশাপাশি আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য বেসাকারি চাকরিজীবীদের ক্যাটাগরি প্রগতি স্কিমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এই স্কিমের সর্বনিম্ন কিস্তির হার এক হাজার টাকা হলেও আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য রাখা হচ্ছে ৫০০ টাকা। তবে মাসিক চাঁদার পুরোটাই আউটসোর্সিং কর্মীকেই দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।
সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক সংস্করণ চালুর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
সেখানে বলা হয়, “এ সংক্রান্ত ভালো অভিজ্ঞতাগুলো পর্যালোচনা করে একটি ধারণাপত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন চালুর উদ্যোগ নেওয়ার উপর সভায় গুরত্বারোপ করা হয়।”
এছাড়া সভায় পেনশন স্কিমে বীমা সুবিধা চালুর বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, “সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বীমা সুবিধা চালুকরণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। সঠিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ বিষয়ে ধারণাপত্র তৈরির কাজ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে পরিচলনা পর্ষদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়।
গতি কমছে?
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গত ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত জাতীয় পেনশন স্কিমে যুক্ত হয়েছিলেন তিন লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন। তাদের মোট জমার পরিমাণ ১৩১ কোটি টাকা।
আর ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর শেষে বা গত ৩০ জুন পর্যন্ত সর্বমোট তিন লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৭ জন মাসিক কিস্তি দিয়েছেন। অর্থ বছরের প্রারম্ভিক স্থিতিসহ তাদের কিস্তির মোট পরিমাণ ১৮৭ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৪ টাকা।
অর্থাৎ এক বছরে সদস্য সাংখ্যা বেড়েছে ১৫৮৬ জন। আর কিস্তির পরিমাণ বেড়েছে ৫৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খানসহ পরিচলনা পর্ষদের সদস্যরা পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এফএ/জেকে
পুরনো খবর
৪ ধরনের পেনশন স্কিম, যেভাবে যুক্ত হওয়া যাবে
জাতীয় পেনশন স্কিম ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটছে
জাতীয় পেনশন স্কিমে স্থবিরতা: আস্থার সংকট, না প্রচারের ঘাটতি?