লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ ব্যাংকের কৃষিঋণের অর্থ জমা দিতে তহবিল
কৃষিঋণ বিতরণে উন্নয়ন ঘটাতে নতুন এ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযাযী কৃষিঋণ দিতে না পারায় যে অর্থ অব্যবহৃত থাকে তা কৃষি উন্নয়ন তহবিলে জমা দিতে হবে।
সোমবার এ তহবিল গঠনের কথা জানিয়ে সার্কুলারে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কৃষি খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠিত এ তহবিলের নাম দেওয়া হয়েছে “বাংলাদেশ ব্যাংক এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমন ফান্ড (বিবিএডিসিএফ)।
প্রতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অনেক সময় ওই লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। ওই লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অর্থ এ তহবিলে জমা দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে, যা থেকে সুদও পাবে তারা।
এ নির্দেশনা চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, “ব্যাংকগুলোর বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ‘বিবিএডিসিএফ ফান্ড’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
সোমবার এ তহবিল পরিচালনার নীতিমালা প্রকাশ করে বলা হয়, অর্থ জমাদানকারী ব্যাংককে ওই জমা করা অর্থের ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতদিন লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশের অর্থ জমা নিত বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তার বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কোনো সুদ দিত না। তবে লক্ষ্য অর্জন হলে জমা করা অর্থ ফেরত দেওয়া হত।
বিবিএডিসিএফে জমা করা অর্থ ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতার ভিত্তিতে কৃষি ঋণ বিতরণে বরাদ্দ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে ২ শতাংশ হারে সুদসহ আসল পরিশোধ করতে হবে।
ব্যাংকগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ৮ শতাংশ সুদ হারে শুধু নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে (এমএফআই লিংকেজ ব্যতীত) কৃষি ও পল্লী ঋণ হিসেবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করতে হবে।
ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি কমাতে বিবিএডিসিএফ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণের ১ শতাংশ সুদের সমপরিমাণ অর্থ জমা করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে রিস্ক মাইগ্রেশন ফান্ড গঠন করতে হবে।
বিবিএডিসিএফ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণের ১ শতাংশ সুদের সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের স্থিতিপত্রের কমন ইকুইটি টায়ার ১ মূলধনের উপাদান জেনারেল রিজার্ভ হিসাবের একটি খাত হিসেবে প্রদর্শন করতে যথাযথভাবে ঘোষণা দিতে হবে।
বিবিএডিসিএফ থেকে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে আদায় করা সুদের অবশিষ্ট ৪ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আয় খাতে স্থানান্তর করতে পারবে।
গত জুলাই মাসে ঘোষিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’তে ফসল ও সবজি চাষে চলতি অর্থবছরে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।
এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি এবং বেসরকারি ব্যাংক ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা বিতরণ করবে।
গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয় ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই-অক্টোবর সময়ে ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে ৪ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা।
