২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

‘মিথ্যায়’ ভর করে শাহাদাত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন: এনসিপি

ফেব্রুয়ারির পর থেকে মেয়র হিসেবে শাহদাত হোসেনের গ্রহণ করা বেতনভাতা ফেরত দেওয়ারও দাবি তুলেছে দলটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 06:39 PM

Updated : 26 Oct 2026, 06:39 PM

চরতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে ‘মিথ্যার ওপর ভর’ করে শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সচিক) মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন।

শাহাদাত হোসেনকে চসিকের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আরিফ মঈনুদ্দিনের ভাষ্য, “শাহাদাত হোসেনকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রমাণ হয়েছে এতদিন তিনি যে দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন সেটা অবৈধ। ২০২১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। সে হিসেবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ শেষ হয়েছিল। আমরা তাকে গণতান্ত্রিকভাবে বিষয়টি স্মরণ করে দিয়েছিলাম।

“কিন্তু তিনি বলেছিলেন, আদালতের রায়ে মেয়র হয়েছেন এবং ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকবে। কিন্তু দেখা গেছে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাকে মেয়র থেকে প্রশাসক করেছে। তাহলে সরকার যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়, তাহলে আদালত অবমাননা করেছে। সে জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।”

ফেব্রুয়ারির পর থেকে মেয়র পদে শাহদাত হোসেনের গ্রহণ করা বেতনভাতা ফেরত দেওয়ারও দাবি তোলেন এই এনসিপি নেতা। একইসঙ্গে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধনে ব্যর্থতা, ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি।

মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের হোসেনসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ রোববার চসিক মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন রেজাউল। এ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচনের ২৭ দিন পর ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ১ অক্টোবর সেই মামলার রায়ে শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন। পরে ওই বছরের ৩ নভেম্বর মেয়র পদে শপথ নেন শাহাদাত।

সবশেষ ভোটের তারিখ ধরলে মেয়র পদে তার মেয়াদ গত মে মাসে ফুরিয়ে যায়। ফলে বিএনপি নেতা শাহাদাতের মেয়র পদে বহাল থাকা নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দেয়।

এ নিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শাহাদাত হোসেন বলেছিলেন, মেয়র হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। বিষয়টি নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে হাই কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পুরনো খবর:

শাহাদাতই চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক