Published : 27 Aug 2024, 07:11 PM
চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় প্যাডেলচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধে দিনভর যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হল চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের।
কয়েকটি এলাকায় প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে।
বেশির ভাগ স্থানে বিক্ষোভ শেষে প্যাডেলচালিত রিকশার চালকরা নিজে থেকে চলে গেছেন। দুয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নিউ মার্কেট, কাজির দেউড়ি, কদমতলী, নয়াবাজার ও কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেন প্যাডেল রিকশার চালকরা।
শুরুতে বেলা ১১টায় নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রিকশা নিয়ে মিছিল শুরু করেন চালকরা। বেলা ১২টার দিকে কয়েকশ রিকশাসহ তারা নিউ মার্কেট মোড়ের গোল চত্বর অবরোধ করেন। এসময় কয়েকজন রিকশাচালক বক্তব্য রাখেন।
মোমিন নামে এক চালক বলেন, “নিউ মার্কেট থেকে কাজির দেউড়ি ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অথচ ব্যাটারি রিকশা নেয় ২০ টাকা। তাহলে আমরা চলমু কেমনে? আমরা তো পরিশ্রম করেই খাচ্ছি। এমন না যে আমরা বইসা বইসা টাকা চাইছি।”
রফিকুল নামেরে আরেক চালক বলেন, “অবিলম্বে ব্যাটারি রিকশা বন্ধ হোক। অবৈধ এসব যান বন্ধ করে দেন, না হয় কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন করে রাজপথে নামব।”
কয়েকজন রিকশাচালকরা বলেন, অবৈধভাবে শহরে ব্যাটারির রিকশা চলছে। একারণে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা হয়। সরকারের কাছে তাদের দাবি, যাতে অবৈধ ব্যাটারির রিকশা শহরের প্রধান সড়কে চলতে না পারে।
তারা আরও বলছেন, রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ অপচয় করছে ব্যাটারির রিকশাগুলো। ট্রাফিক পুলিশকে যাতে সক্রিয় করা হয়।
পরে নিউ মার্কেট এলাকা ছেড়ে যান চালকরা।
রিকশাচালকদের অবস্থানের কারণে নগরী আমতল, জুবলি রোড, কোতোয়ালী মোড়, লালদীঘির পাড়, কাজীর দেউড়ি, মেহেদীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পথচারীরা।
নগরীর নন্দনকানন এলাকার বাসিন্দা অভিভাবক শামীমা সুলতানা বলেন, “হঠাৎ করে নিউ মার্কেট মোড়ে রিকশা চালকের কর্মসূচি শুরু হয়। মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে যানজটে আটকা পড়ি। স্লোগান ও মিছিল দেখে মেয়ে ভয় পেয়ে যায়। কি হচ্ছিল সেটা বুঝতেও পারছিলাম না। আমরা আগে থেকে এই কর্মসূচির বিষয়ে কিছু জানতাম না।”
নিউ মার্কেট মোড়ের কর্মসূচি শেষে রিকশাচালকদের অনেকেই কাজীর দেউড়ি মোড়ে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বেলা ৩টা পর্যন্ত থাকেন। এখানে অদূরে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল।
অন্যদিকে নগরীর নয়াবাজার মোড়ে প্যাডেলচালিত রিকশার চালকদের অবস্থান নিয়ে ব্যাটারির রিকশা চলাচলে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
এ সময় মারামারি থামাতে স্থানীয় ছাত্র-যুবকরা এগিয়ে আসেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন সেনা সদস্যরা। এরপর আন্দোলনকারী রিকশা চালকরা সেখান থেকে সরে যান।
এছাড়া বেলা একটার দিকে ওআর নিজাম সড়কে ব্যাটারির রিকশার চালকরা অবস্থান নিলে প্যাডেলচালিত রিকশার চালকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের উত্তেজনার কারণে জিইসি মোড়ে যানজট লেগে যায়।
সবশেষ বিকাল চারটার পর কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায়ও প্যাডেল রিকশার চালকরা অবস্থান নেয়। পরে সেখানে থাকা পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও যাতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা না হয় সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি।”