Published : 07 Sep 2026, 07:57 PM
শিশুদের পেটের ভেতরে করে ইয়াবা পাচারের একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে র্যাব। এ সময় দুই শিশুর পেটের ভেতর থেকে ১৩৩টি পুটলির ভেতর থেকে ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে র্যাবের ভাষ্য।
সোমবার বিকালে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহিদুল ইসলাম এ তথ্য দেন।
র্যাব বলছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকা থেকে শনিবার রাতে ৯ ও ১২ বছর বয়সি দুই শিশুসহ এক নারীকে সন্দেহবশত আটক করা হয়। পরে হাসাপাতালে পরীক্ষা করে দুই শিশুর পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শিশু দুটির সঙ্গে থাকা শারমিন আক্তার ওরফে ইসমত আরা নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। শারমিনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডোমখালী গ্রামে। শারমিন এর আগেও দুই বার এভাবে শিশুদের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার করেছিল বলে স্বীকার করেছে।
মূলত অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের এভাবে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করা হত বর্ণনা করে র্যাব কর্মকর্তা তাওহিদুল বলেন, “মাসে আট হাজার টাকা এবং বাড়িতে বাজার করে দেওয়ার কথা বলে ওই দুই শিশুকে বান্দরবানের লামা উপজেলা থেকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ইয়াবা ভরা পলিথিনের পুটলিগুলো গিলিয়ে তা পাচার করা হচ্ছিল।
“র্যাবের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে সংবাদ ছিল একটি চক্র শিশুদের ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট তৈলারদ্বীপ সেতু এলাকায় চট্টগ্রামের দিকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে ওই নারীকে আটক ও দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
“তাদের স্বীকারোক্তিতে দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ৯ বছর বয়সি শিশুর পেট থেকে ৬৬টি ও ১২ বছর বয়সি শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি ইয়াবা ভরা পুটলি বের করা হয়।”
এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছে র্যাব।