Published : 05 May 2026, 01:44 PM
ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় আরো সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ তাদের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং দুজন আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা।"
এ নিয়ে মামলায় মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হল। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে ১০ এপ্রিল ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। তার আগে গত ৫ এপ্রিল মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন।
গত ১১ মার্চ এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৫ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত বছরের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন।
আসামিদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেন। এছাড়া আরও সাতজনকে অভিযোগপত্রে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি করা হয়।
বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া সাতজনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক। অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রোটকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ‘ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে’ ভিশন ট্রেডিং নামে একটি কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই কোম্পানি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করেন। নেতিবাচকব প্রস্তাব থাকা স্বত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের ‘যাচাই-বাছাই না করে’ ঋণ অনুমোদন করে।
ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি কোম্পানির ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
পরে সেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।