টেকনাফে ভূট্টো হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি

পরিবারের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি একরামের নেতৃত্বে গত ১৫ মে নৃশংসভাবে কুপিয়ে নুরুল হক ভূট্টোকে হত্যা করা হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 11:54 AM
Updated : 4 August 2022, 11:54 AM

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় তালিকাভুক্ত ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’ নুরুল হক ভূট্টো হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভূট্টোর ছোট ভাই নুরুল ইসলাম নুরু অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামিসহ বাকিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং তাদের হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি একরামের নেতৃত্বে গত ১৫ মে ‘নৃশংসভাবে’ কুপিয়ে খুন করা হয় নুরুল হক ভূট্টোকে।

হত্যার পর তার একটি পা কেটে নিয়ে ‘উল্লাস’ করে এলাকা ছাড়ে বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

নুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তাদের চাচাত ভাই এনামুল হক। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন মামলার প্রধান আসামি একরামের চাচা আলী আহমদ।

এনামুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর বিরোধের জেরে একরামের নেতৃত্বে ভূট্টোকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ করেন নুরু।

হত্যার বর্ণনা দিয়ে নুরু বলেন, ১৫ মে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে সালিশি বৈঠক করে নিজের বাড়ি ফেরার পথে বড়হাবির পাড়া ডেইল এলাকা মসজিদের পাশে পথরোধ করে একরামের নেতৃত্বে ভূট্টোর ওপর হামলা হয়।

“প্রাণে বাঁচতে ভূট্টো স্থানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে জখম করে। একরাম নিজেই ভূট্টোর ডান পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সেটি নিয়ে হামলাকারীরা উল্লাস করে চলে যায়।”

Also Read: কক্সবাজারের ‘ইয়াবা কারবারি’ পিতাপুত্রের ‘৪০ কোটি’ টাকার সম্পদ জব্দ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার সময় ভূট্টোর পরিবারের সদস্যদের এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়।

নুরুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন তার মা আবেদা খাতুন, ভূট্টোর স্ত্রী নাজনীন সুলতানা, নূর মোহাম্মদের স্ত্রী লাইলা বেগম, অপর ভাই নুরুল আবসার খোকন।

ভূট্টো খুন হওয়ার পরদিন ১৬ মে তার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান নুরু।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হত্যা মামলার অন্যতম আসামি একরাম ইয়াবা কারবারি। এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।”

এর আগে ২০১৮ সালে নামের সঙ্গে মিল থাকায় স্থানীয় কাউন্সিলর একরামকে আটক করা হয়। পরে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান নুরু।

ভূট্টো হত্যার দুই বছর আগে তার আরেক ভাই নুর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রী পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সেই কথাও তুলে ধরেন নুরুল ইসলাম।

তার অভিযোগ সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া মেজর সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ২০১৯ সালের ২২ মার্চ নূর মোহাম্মদকে ধরে নিয়ে ৪০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন।

টাকা দিতে না পারায় তাকে রাতের বেলা কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নুরু দাবি করেন, তার ভাবী লাইলা বেগম নিজের স্বামীকে বাঁচাতে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে টেকনাফ থানায় ওসি প্রদীপের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তারপরও তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মেজর সিনহা হত্যার পর তারাও ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।

Also Read: সম্পদ ফিরে পেতে হাই কোর্টে ‘ইয়াবা কারবারি’ ভুট্টো

ভূট্টো এবং তার ভাই নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধেও ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের করা ‘শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর’ তালিকায় ভূট্টোর নাম আছে।

২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ভুট্টোসহ তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাদক কারবারের প্রায় ১০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে ২০১৮ সালে জানিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।

এছাড়া মাদক এবং অর্থপাচারের মামলায় ২০১৯ সালের পহেলা জুন আদালতের নির্দেশে তাদের বাড়িসহ প্রায় ৪০ কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছিল পুলিশ। মাদকের মামলায় তার বাবা এজাহার মিয়ার নামও ছিল

এছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায়ও ভূট্টো ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে একটি মামলা হয়েছিল।

নিজের ভাই ও বাবার বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর বলেন, “বাবা কিংবা কোনো ভাইয়ের নাম ইয়াবা কারবারির তালিকায় ছিল না। টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ দাশ জোর করে তাদের বাড়ি দখল নিয়েছিল।”

সিআইডির অর্থপাচার আইনের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “সিআইডির মামলায় বড় ভাই ভূট্টো কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। কিন্তু আয়ের কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপনের পর তাকে জামিন দেওয়া হয়।”

Also Read: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাউন্সিলর একরাম নিহতের তদন্ত চান আ. লীগ নেতারা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক