১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে দুই দিনে স্বাস্থ্য সহকারীসহ ৩ মৃত্যু

চলতি মাসের প্রথম দশদিনে জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৫৩ জন, প্রাণ গেছে ৪ জনের।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 07:36 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে গত দুইদিনে এক স্বাস্থ্য সহকারী নারীসহ অন্তত ৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে গত একদিনেই প্রাণ গেছে ২ জনের। 

চটগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়। 

নিহতদের মধ্যে ২৯ বছর বয়সি রাশেদা বেগম সন্দ্বীপ উপজেলায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। 

এছাড়া ডেঙ্গুতে রুজিনা মজিদ নামে চার বছর বয়সি এক শিশুও মারা গেছে। শিশুটি বেসরকারি এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার মারা যায়। বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে রুজিনার মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। 

এরআগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সি ময়না আক্তার নামে আরেক নারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। 

এদিকে বৃহস্পতিবার দেওয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে নতুন করে ৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দশদিনে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৫৩ জন। 

এই সময় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। চলতি বছর কোন এক মাসে জেলায় এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। 

এরআগে গত অগাস্ট মাসে জেলায় ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। মারা যান দুই জন। 

দুই দিনে ৩ জনের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ার বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, “আক্রান্তের হার বেশি এবং রোগী শনাক্তও হচ্ছে বেশি। এখনো প্রায় প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে এইডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। 

“সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রবণতা থাকতে পারে। মশা নিধনে উদ্যোগ নিচ্ছি। জেলা প্রশাসনের সাথে তিনমাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সিটি করপোরেশনের সাথে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শনিবারের মধ্যে শুরু হবে”। 

ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় ন্যাশনাল গাইডলাইন অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব উপজেলায় চিকিৎসা উপকরণ পাঠানো হয়েছে বলেও তথ্য দেন সিভিল সার্জন। 

তিনি বলেন, “আক্রান্তদের চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘ডেঙ্গু ওয়ার্ড’ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫টি করে শয্যা রাখা হয়েছে। জনসচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ডও চলছে।”