১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের হিউম্যান হলার বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি

বিকল্প পরিবহনে যেতে গিয়ে অনেককে বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ একাধিক যানবাহন বদলে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের হিউম্যান হলার বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি
ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ৩ নম্বর রুটের হিউম্যান হলারগুলো বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। মুরাদপুর মোড়ে যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 07:09 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর ৩ নম্বর রুটে চলাচলকারী হিউম্যান হলার বন্ধ রেখেছেন চালক-সহকারীরা।

নিউ মার্কেট থেকে মুরাদপুর হয়ে ফতেয়াবাদ পর্যন্ত এই রুটের হিউম্যান হলারগুলো বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। 

বিকল্প পরিবহনে যেতে গিয়ে অনেককে বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ একাধিক যানবাহন বদলে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে এসব যানবাহনের ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। গত মাসখানেক ধরে চলা গ্যাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘন্টা চলে যাচ্ছে পাম্পে গ্যাসের লাইনে অপেক্ষা করতে। তাই আগের ভাড়ায় তাদের পক্ষে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। 

গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছিল। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং পুলিশ বুধবার অভিযান চালায়। 

বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ভাড়া সমন্বয় না করা হলে আঞ্চলিকভাবে কোনো একটি রুটের ভাড়া বাড়ানো সম্ভব না। বর্ধিত ভাড়া আদায় হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর মুরাদপুর মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে লোকজন মোড়ের আশেপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। আর এই রুটের বেশিরভাগ হিউম্যান হলার বালুছড়া এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

এই রুটের গাড়ি না পাওয়ায় কেউ অন্য রুটের বাস-মিনিবাসে উঠতে হুড়োহুড়ি করছেন। কেউ বা ঘুর পথে বেশি ভাড়ায় অন্য রুটের গাড়ি ধরে গন্তব্যে যেতে রওনা হচ্ছেন। 

সাইফুল হক নামের এক যাত্রী বলেন, “সকালে কিছুক্ষণ চলার পর আর ৩ নম্বর রুটের হিউম্যান হলার চলছে না। অন্যদিন হিউম্যান হলারে করে ১০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারতাম। আজকে অন্য গাড়িতে লাগল ২০ টাকা।”

তিনি বলেন, “বয়স্ক আর শিশুরা তো দৌড়াদৌড়ি করে গাড়িতে উঠতে পারে না। তাদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। অনেকে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। এদিকে বৃষ্টিও হচ্ছে।” 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুধু হিউম্যান হলারগুলো চলছে না। দ্রুতযান সার্ভিসের বাস চলছে। 

ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ৩ নম্বর রুটের হিউম্যান হলারগুলো বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। মুরাদপুর মোড়ে যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। 

ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ৩ নম্বর রুটের হিউম্যান হলারগুলো বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। মুরাদপুর মোড়ে যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

“২০১১ সালের পর আর হিউম্যান হলারের ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা। এখন গ্যাসের সমস্যার কারণে পাম্পে গেলে সারারাত চলে যায়। সারাদিন গাড়ি চালিয়ে সারারাত পাম্পে গ্যাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হলে দুজন মানুষের খাওয়া খরচসহ কিছু খরচ তো আছে।” 

তিনি বলেন, “চালক ও সহকারীরা সেই খরচ কোথায় পাবেন? যাত্রীদের কাছে ২-৪ টাকা বাড়তি চাইলে তারা দেন না। উল্টো গতকাল কয়েকটি রুটে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে।

“এখন গাড়ির চালক-সহকারীরা বলছেন, খরচ উঠছে না। উল্টা জরিমানা হচ্ছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। আমরা তাদের সাথে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।” 

তবে এই রুটে ডিজেল চালিত মিনিবাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন আগের ভাড়ায় চলাচল করছে জানিয়ে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “শহরের যেসব রুটে গ্যাসচালিত গাড়ি চলে সেসব রুটে সংকট হচ্ছে। রাস্তায় এমনিতে নতুন করে কোন গাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়নি বহু বছর। 

“তার উপর গ্যাসের জন্য অনেক গাড়ি দিনের বেলাতেও লাইনে থেকে যায়। ফলে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম হয়। একারণে যাত্রীর চাপ বেশি থাকে।” 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গ্যাসের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করার দাবি জানান তিনি। 

আঞ্চলিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. সানাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তেল বা জ্বালানির দাম বাড়লে ভাড়া নির্ধারণ হয় কেন্দ্রীয়ভাবে। এভাবে ভাড়া বাড়ানো যায় না।” 

৩ নম্বর রুটে হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি কী করা যায়। তবে কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”