ফজলে করিম চৌধুরী রিমান্ড শেষে কারাগারে
তাকে আদালত কক্ষে না নিয়ে পুলিশের গাড়িতে রাখা হয়।
রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুরুল হারুন।
এদিন সকালে ফজলে করিমকে আদালত প্রাঙ্গণে এনে পুলিশের গাড়িতে রাখা হয়। তাকে আদালত কক্ষে না নিয়ে রিমান্ড শেষ হওয়ার বিষয়টি বিচারককে অবহিত করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ফজলে করিমকে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জাকির হোসাইন মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রিমান্ড শেষে সকাল ১০টায় আদালতে হাজির করা হয় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে। আদালতকে বিষয়টি জানালে তিনি আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”
উজানের মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির করা একটি ভাংচুরের মামলায় গত মঙ্গলবার ফজলে করিমকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ। সেদিন নগরীর তিনটি থানার তিনটি হত্যা মামলায় এবং রাউজান থানার দুটি ভাংচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
রাউজানের যে মামলায় ফজলে করিমের রিমান্ড হয়েছিল, সেটির বাদী মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির দলইনগর-নোয়াজিশপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন।
২৩ আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল ফজলে করিমের নির্দেশে আসামিরা আধ্যাত্মিক ও তরীকত্বভিত্তিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির দলইনগর-নোয়াজিশপুর শাখার পাকা একতলা কার্যালয় ভবন গুড়িয়ে দেয় এবং কমিটির সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করা হয়।
সেসময় কার্যালয়ে থাকা নগদ ৬ লাখ টাকাসহ সব সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও করা হয় মামলাটিতে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আটকের কথা জানায় বিজিবি। সেদিন বিজিবি জানায় ‘অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টার’ সময় তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর ফজলে করিমকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টার যোগে তাকে সেখান থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়।
হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেয়া, ভাংচুর, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ এখন পর্যন্ত ফজলে করিমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
রিলেটেড লিংক-
