Published : 05 Aug 2025, 04:16 PM
যারা মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, তাদের মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “মব কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি বলছি- এটাই হতে হবে যারা বলবে, আচরণ করবে; শেখ হাসিনার সাথে তাদের কোনো ব্যবধান নেই।
“আমরা বাংলাদেশের জনগণের মালিকানার জন্য যুদ্ধ করেছি এত বছর, প্রাণ দিয়েছি, জেল খেটেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি- বাংলাদেশের লক্ষ কোটি মানুষ। আবার যদি শেখ হাসিনার মন-মানসিকতায় চলে যাই, সেটা গণতান্ত্রিক মানসিকতা হবে না।”
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আপনাকে আস্থা রাখতে হবে বাংলাদেশের মালিক যারা জনগণ, তাদের উপর। যত পরিবর্তন, যত সংস্কার, যত আগামী দিনের রূপরেখা- এটাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে আসতে হবে।
“জনগণের কাছে আপনাকে যেতে হবে, যেটা শেখ হাসিনা বন্ধ করে দিয়েছিল। এই পথটা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যারা যা করতে চাইবে, জনগণের কাছে যেতে হবে। বলতে হবে, ‘আমরা এই কাজগুলো করতে চাই নতুন বাংলাদেশের জন্য’। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আপনি আগামী দিনের পরিবর্তন আনবেন। আপনার নিজের ম্যান্ডেট না।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা কিন্তু চলে গেছে। সে কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বৈরাচার রেখে গেছে আমাদের মধ্যে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফ্যাসিস্ট রেখে গেছে। আচার-আচরণে দেখবেন, ‘এটা হতে হবে, এটা দিতে হবে, এটা না দিলে আমরা নাই’।
“আমি তো মালিক হই নাই এদেশের; মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। এই গণতান্ত্রিক মন-মানসিকতায় আপনাকে আসতে হবে।
“নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হচ্ছে কারেকশন প্রসেস, আপনি ভুল করলে যা আপনাকে সংশোধন করবে; প্রতিবাদ করবেন গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে।”
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর বাংলাদেশের মানুষের মনে যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা জেগেছে- এটা যদি আমরা ধারণ করতে না পারি, সবকিছু বৃথা যাবে। কোনো রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দল যদি এটা ধারণ করতে না পারে, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ নেই।
“শেখ হাসিনার যে কারণে ফ্যাসিস্ট হয়েছে- গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে এককভাবে যা করতে চেয়েছে; আমাদেরকে গণতন্ত্র পরিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। আধা গণতন্ত্র না, থ্রি কোয়ার্টার গণতন্ত্র না। এবং সেই গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য আমাদেরও মন-মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন আছে। এজন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের এখন প্রত্যয়- বিল্ড দ্য ন্যাশন। এই ত্যাগের প্রতি যদি সম্মান জানাতে চাই, তাহলে যার যার জায়গা থেকে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে।
“রাজনীতির সাথে সাথে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। দেশের প্রত্যেক মানুষের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভাসু’র উপাচার্য মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।