Published : 08 Aug 2026, 03:05 PM
একটি 'নিষিদ্ধ সংগঠনের' প্রধানের বক্তব্য প্রচার করতে সংবাদমাধ্যম কর্মীরা ইচ্ছুক কি না, সেই প্রশ্ন করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভেরি ক্লিয়ারলি বক্তব্য দিয়েছে। আমি ওই অবস্থানেই থাকতে চাই। এবং সেটা ছাড়াও যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে।
“একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান কী বক্তব্য দিতে পারেন কী না? বা আপনারাও কী একজন সাসপেক্টেড এবং একজন ক্রিমিনাল, তার বক্তব্য প্রচার করার জন্য আপনাদেরও কী মনে চায় কী না? সেটাও তো আমাদের প্রশ্ন থাকতেও পারে।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে আসেন বুধবার। তবে সেখানে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন ভার্চুয়ালি।
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মলেনের ঘোষণা সামনে আসতেই তার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছিলেন, “এ ধরনের নিউজ যদি কেউ দিয়ে থাকে বা আগাম জানায়, পাবলিশ করে, তাহলে এটা আদালতের রায় ‘ভায়োলেট’ করা হবে।
“আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। আমরা আগেরবার একটা সতর্কতা দিয়েছিলাম। আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এটা যেন কেউ না করে। বিরত থাকেন কেননা আদালতের নির্দেশ আছে।”
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রমে ২০২৫ সালের মে মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তখনকার অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
আর আওয়ামী লীগ সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের এই ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা ’হত্যা’ ও অসংখ্য মানুষের ‘জীবন বিপন্ন‘ করা এবং বিভিন্ন সময় ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
সোশাল মিডিয়ার ভুয়া তথ্য, গুজবের মাত্রা বাড়ছে
চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শনিবার শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী কথা বলছিলেন।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া্উর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ এটি জলাবদ্ধতা হলে পানিতে ডুবে যায়।”
এই বেতার কেন্দ্রটি আরও কীভাবে ঠিকঠাক রাখা যায় সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে এটুকু বলতে পারি, সাংবাদিকরা যখনই বিভিন্ন সময় আবেদন করেন আমরা ইফেকটিভলি যাতে সহযোগিতা করতে পারি সেদিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যে বাজেট ট্রাস্টের জন্য দেওয়া হয়েছে, সেটা আরেকটু বাড়ানো যায় কী না সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
তার কথায়, সোশাল মিডিয়ার পরিধি যত বাড়ছে, ভুয়া তথ্য ও গুজবের মাত্রা বাড়ছে।
তিনি বলেন, “সরকার এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবছে। এ নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয়। অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে আমরা বিভিন্ন রকম প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এডুকেইট করার জন্য।
“বিশেষ করে অনলাইন মিডিয়া এবং বিভিন্ন রকম রিলস যারা বানায়। নিওমিডিয়া প্রজেক্টের অধীনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এবং তথ্যচিত্র নির্মাণ করছি। সেগুলো ছাড়াও বিভিন্ন রকম টুলস ডেভেলপ করার চেষ্টা করছি। যেগুলোর মাধ্যমে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং করে জনগণকে অবহিত করতে পারব কোনটি সঠিক তথ্য আর কোনটি অপতথ্য।”
এছাড়া বিটিভির অনুষ্ঠানের মান বাড়াতে ‘ফরেনসিক অডিট’ শুরু হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী। অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশন, অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচারের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে
এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং বেতারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।