Published : 07 Aug 2026, 02:48 PM
চট্টগ্রাম নগরীর চশমা হিলে প্রয়াত সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। চব্বিশের আন্দোলে ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর চশমা হিলের বাড়িতে আরো একাধিকবার হামলা ও আগুন দেওয়া হয়।
চশমা হিলের ওই বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে ফের আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন। তিনি বলেন, তার বাবার বাড়ি লক্ষ্য করে ‘পেট্রল বোমা ছোড়া হয়’।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে বুধবার উপস্থিত ছিলেন নওফেল। ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
সশরীরে মঞ্চে উপস্থিত থেকে সেদিন বক্তব্য দেন নওফেল।
সেদিন সম্মলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও। সেদিন মাগুরার বাড়িতে সাকিবের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
সালেহীন ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘটনা সামনে এনেছেন।
তিনি বলেন, “আজ আবারও আমার প্রয়াত পিতা, জননেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পারিবারিক বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে একটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
“এটি শুধু একটি বাড়ির ওপর হামলা নয়, এটি একটি পরিবারের নিরাপত্তার ওপর আঘাত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত এবং আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা।”
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছেন।
পোস্টে যুক্ত করা তিনটি ছবিতে দেখা যায়, মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাড়ির সামনের রাস্তায় কয়েকজন ব্যক্তি জড় হয়েছেন। তারমধ্যে একজন সীমানা প্রাচীর বেয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলার সানশেড ঘেষে দাঁড়িয়ে আছেন।
অন্য এক ছবিতে ওই ব্যক্তিকে দেয়ালের উপর হেঁটে রাস্তার দিকে ফিরে আসতে দেখা যায়। তখন তার পিছনে আগুন জ্বলছিল।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কয়েকজন লোক বাড়ির সানশেডে কিছু একটা রেখে তাতে আগুন দেয়। এতে সানশেডের একাংশ ও একটি পাইপ কালো হয়ে গেছে।
“স্থানীয়দের তৎপরতায় ওই লোকগুলো সেখান থেকে চলে যায়। পরে আমাদের টহল টিমও সেখানে গিয়েছিল।”
ওই ঘটনার সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে ছিলেন না জানিয়ে ওসি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, সে সময় শুধু কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন।
আগুন দেওয়ার ঘটনার ভিডিও এখনো সংগ্রহ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “জুমার নামাজ শেষে আমাদের একটি টিম গিয়ে ফুটেজ সংগ্রহ করবে।”