Published : 11 Nov 2025, 04:19 PM
জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকের দুই কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুই আসামিকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এ রায় দেওয়া হয়।
দণ্ডিতরা হলেন- ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) চান্দগাঁও শাখার সাবেক প্রায়োরিটি ব্যাংকিং ম্যানেজার মো. ইফতেখারুল কবির, নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আজম চৌধুরী এবং নগরীর হালিশহরের মধ্যম রামপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বাপ্পি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামিদের মধ্যে ইফতেখারুল কবির ও আজম চৌধুরী প্রত্যেকের ১৪ বছর করে সাজা এবং জাকির হোসেনের আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মামলার আরেক আসামি ফারজানা হোসেন ফেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক।
দণ্ডিত তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান পিপি।
২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল কবির চন্দন বাদী হয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে গ্রাহকের দুই কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় মামলায়।
২০১৯ সালের ২২ অগাস্ট ইস্টার্ন ব্যাংকের পক্ষে চান্দগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখার সাবেক প্রায়োরিটি ব্যাংকিং ম্যানেজার ইফতেখারুলের বিরুদ্ধে। এর প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল গ্রাহক কনা দে ইস্টার্ন ব্যাংকের ও আর নিজাম রোড শাখায় গিয়ে নিজের কাছে থাকা এফডিআরের কাগজপত্র দেখিয়ে এর বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চান। এর প্রেক্ষিতে ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক গ্রাহকের উপস্থাপিত এফডিআর রশিদ যাচাই করে দেখেন, ওই নম্বরে কোনো এফডিআর খোলাই হয়নি।
এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখতে পায়, ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখার সাবেক প্রায়োরিটি ব্যাংকিং ম্যানেজার ইফতেখারুল ২০১৪ সালের ৩ জুলাই যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময় গ্রাহকের সাথে একই উপায়ে প্রতারণা করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আরেক গ্রাহক আবুল মুনসুর খান নামে একই শাখায় দুই কোটি ২৯ লাখ টাকার একটি এফডিআর খোলেন। এটি খোলার সময় গ্রাহকের কাছ থেকে কৌশলে ঋণের নথিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় ওই ম্যানেজার ইফতেখারুল। পরে মূল এফডিআরের নথি ব্যবহার করে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ঋণ নেওয়া হয়। অথচ গ্রাহক আবুল মুনসুর কোনো ঋণ নেননি।
এরপর গ্রাহকের সই জাল করে অন্য আসামিদের নগদ চেক ও ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে কয়েক দফায় আবুল মুনসুরে অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা নিজেদের তৈরি অ্যাকাউন্টে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর করেছে। তদন্তে গ্রাহকের স্বাক্ষর ও নথিপত্র জাল করার প্রমাণ পায় দুদক। ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এই টাকা স্থানান্তর করা হয়।
অনুসন্ধান শেষে দুদকের করা মামলায় ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭ এবং ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।