মিতু হত্যায় সন্তানদের সাক্ষাৎ চেয়ে পিবিআই’র আবেদনের শুনানি হয়নি

বিচারক অসুস্থ থাকায় চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় দুই সন্তানের সাক্ষাৎ চেয়ে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআইয়ের আবেদনের শুনানি হয়নি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2022, 03:53 PM
Updated : 16 Jan 2022, 03:53 PM

রোববার আবেদনটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। বিচারক ফেরদৌস আরা অসুস্থ থাকায় এদিন শুনানি হয়নি কিংবা নতুন করে দিনও ঠিক করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুরাদ এ মাওলা সোহেল দায়িত্ব পালন করছেন।

পিবিআইয়ের আবেদনটির শুনানির বিষয়ে বিচারকের বক্তব্য তুলে ধরে কফিল উদ্দিন বলেন, “তিনি বলেছেন, নিয়মিত বিচারক যখন আসবেন তখন শুনানি হবে। কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।”

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান,যেহেতু ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সুস্থ হয়ে ফিরে শুনানি করবেন তাই কোনো নির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হয়নি।

স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের করা মামলায় এই দম্পতির দুই সন্তানের সাক্ষাত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক সপ্তাহ খানেক আগে চট্টগাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদনটি করলেও গত শুক্রবার তা জানা যায়।

শিশুদের বিষয় হওয়ায় আবেদনটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ শুনানির জন্য স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় গত বছর মাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মাগুরার বাসায় গিয়ে মিতু-বাবুলের সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্য নেওয়ার আদেশ দিয়েছিল আদালত।

তবে গত বছর ৩০ জুন আদালতের ওই আদেশের পর তখনকার তদন্ত কর্মকর্তা বাবুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি বাবুল আক্তারের ভাই ভাই হাবিবুর রহমানের।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পিবিআই’র করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মিতু হত্যায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের করা মামলাতেই বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

পাঁচ বছর আগে মিতু হত্যার পর বাবুলের করা হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে খোদ বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে গত বছরের মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা পিবিআই।

এর ভিত্তিতেই বাবুলকে আসামি করে নতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মিতুকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন তখনকার পুলিশ সুপার বাবুল। তার ঠিক আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে ছিলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন বাবুল আক্তার নিজেই। কয়েক মাস পর নানা নাটকীয়তার মধ্যে পুলিশের চাকরি ছাড়তে হয় তাকে।

পাঁচ বছর পর গত মে মাসে ওই মামলায় বাবুলকে পিবিআই হেফাজতে নিয়ে পাঁচ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরওপড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক