চট্টগ্রামে মশা দমন আপাতত পুরনো কীটনাশকেই

পরীক্ষায় কার্যকারিতা কম বলে প্রমাণ মিললেও পুরনো কীটনাশকেই মশা নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2021, 03:23 PM
Updated : 4 August 2021, 03:23 PM

তবে ফগার মেশিনে কীটনাশক ছিটানো বন্ধ রেখেছে সিসিসি। শুধু স্প্রে মেশিনে ছিটানো হচ্ছে মশার লার্ভার মারার ওষুধ।

সিসিসির হাতে থাকা কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় গত মার্চে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা চেয়েছিলেন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

কীটনাশকের মান যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি মঙ্গলবার প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে বলা হয়, সিসিসি এতদিন যে লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড ব্যবহার করে আসছিল, সেগুলোতে লার্ভা ও মশা মরার হার খুবই কম।

সপ্তাহখানেক ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় বুধবার থেকে নগরীজুড়ে মশা নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’র ঘোষণা দিয়েছিল সিসিসি।

বুধবার দুপুরে মেয়র রেজাউল নগরীর ষোলশহর এলাকায় সেই কর্মসূচি উদ্বোধন করে বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পরামর্শ অনুযায়ী আজ থেকে নগরীতে মশক নিধনে মাসব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হল।”

জানতে চাইলে সিসিসির উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আপাতত আমরা এডাল্টিসাইড প্রয়োগ করছি না। পুরনো লার্ভিসাইড ও কালো তেল ব্যবহার করা হচ্ছে লার্ভা মারতে।”

নতুন কীটনাশক কেনার চেষ্টা চালাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দ্রুততম সময়ে টেকনিক্যাল কমিটির পরীক্ষায় প্রমাণিত কার্যকর এডাল্টিসাইড সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

“নতুন এডাল্টিসাইড আসলে তখন ছিটানো হবে। যেহেতু ফগার মেশিনে মশা মারা তেমন কার্যকর নয় বলে প্রমাণ হয়েছে, তাই কীটনাশক ছিটাতে এখন শুধু টু স্ট্রোক স্প্রে মেশিন ব্যবহার করছি।”

এই কর্মসূচিতে প্রতিদিন নগরীর ৪টি করে ওয়ার্ডে কীটনাশক ছিটানোর কাজ শেষ করা হবে। পরদিন আর ৪টি ওয়ার্ডে কাজ চলবে। এ ভাবে ৪১টি ওয়ার্ডে ১০ দিন করে চলবে।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ছিটানো হবে। এভাবে মোট তিন দফায় মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে।

মেয়র রেজাউল মশা বেড়ে যাওয়ার জন্য নগরবাসীর অচেতনতাকেও দায়ী করেন।

তিনি বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে নগরবাসীকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। জমাট পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুর লার্ভা ছড়ায়। তাই নিজের বাড়ির আঙিনায় যেখানে জমাট পানি আছে, তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

“প্রায়ই দেখা যায় নির্মাণাধীন ভবনে জমাট পানি যত্রতত্র পড়ে থাকে এবং এখানে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তাই নির্মানাধীন ভবনের মালিকরা জমাট পানি না সরালে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

বুধবার সিসিসির নির্বাহী হাকিম মারুফা বেগম নেলী ও বিশেষ হাকিম জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর লাভলেইন ও দামপাড়া সিডিএ এভিনিউ এলাকায় দুটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে পানি জমে থাকায় দুই ভবন মালিককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক