করোনাভাইরাসমুক্তির পর ৯ মাস পর্যন্ত এন্টিবডি: গবেষণা

করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের শরীরে এন্টিবডি মিলেছে এবং নয় মাস পর্যন্ত তা কার্যকর ছিল বলে চট্টগ্রামে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 May 2021, 07:45 PM
Updated : 8 May 2021, 07:45 PM

এছাড়া করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল কিন্তু পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে, এমন ব্যক্তিদের প্রায় ২৬ শতাংশের শরীরেও এন্টিবডির প্রমাণ মিলেছে।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের শরীরে এন্টিবডির উপস্থিতি নিয়ে ‘২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল’ এর একদল চিকিৎসকের গবেষণায় উঠে আসা এসব তথ্য শনিবার প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়াদের মধ্যে ৮৩৪ জনের (৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ) মধ্যে এন্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর পাওয়া যায়নি ১০৭ জনের (১১দশমিক ৪ শতাংশ) মধ্যে ।

অপরদিকে কোভিডের উপসর্গ থাকার পরও পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়াদের মধ্যে এন্টিবডির উপস্থিতি মিলেছে ১৫৩ জনের (২৬ শতাংশ) এবং মেলেনি ৪৩৬ জনের (৭৪ শতাংশ)।

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস চিকিৎসার বিশেষায়িত এই হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।

গবেষণা দলে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান, জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, সাউথ ক্যরোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহযোগী ডা. এম এ কবির চৌধুরী, সহকারী সার্জন ডা.অমি দেব ও চিকিৎসা কর্মকর্তা মোরতাহিনা রশিদ কাজ করেন।

গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দৈবচয়নের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের এক হাজার ৫৩০ জনের রক্ত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

এর মধ্যে আরটিপিসিআর পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল ৯৪১ জনের এবং নেগেটিভ ছিল ৫৮৯ জনের।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া ডা. আবদুর রব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘আমরা গত বছরের মার্চ-এপ্রিল এবং তার পরের সময়ে করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়া এবং নেগেটিভ হওয়া রোগীদের নিয়ে এই গবেষণা করেছি। যারা পজিটিভ হয়েছে তাদের শরীরে কতটুকু এন্টিবডি তৈরি হয়েছে তা দেখেছি।”

তিনি বলেন, আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির শরীরে আমরা নয় মাস পর্যন্ত এন্টিবডির উপস্থিতি পেয়েছি। এসব তথ্য আরো বিশ্লেষণ করে যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক জার্নালে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণার তথ্য উপস্থাপনকালে বলা হয়, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের ৯২ শতাংশের জ্বর ছিল, কাশি ছিল ৬৩ শতাংশের এবং ঘ্রাণশক্তি লোপ পায় ৫২ শতাংশের।

এ ছাড়া গলাব্যথা, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ ছিল অনেকের। আক্রান্তদের ১৫ শতাংশের ডায়াবেটিস, ২৩ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ, ৯ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এবং হৃদরোগ ইত্যাদি ছিল।

কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর তাদের প্রায় ৫৭ শতাংশের কোনো না কোনো উপসর্গ অনেক দিন ধরে ছিল। এর মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা, ব্যথা, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, কাশি, চুল পড়ে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

গবেষণার ফল সরকারের চলমান করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কর্মসূচিকে আরও গতি দেবে মন্তব্য করে ডা. আবদুর রব বলেন, “ইতিমধ্যে অনেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন। ছয় মাস পরে আবারও আমরা এন্টিবডি পরীক্ষার কাজ করে দেখতে পারি। এতে টিকা প্রদানের ফলে আক্রান্ত কিংবা আক্রান্ত না হওয়াদের মধ্যে কতটুকু এন্টিবডি মিলছে তা জানা যাবে।”   

গবেষণায় সবমিলিয়ে এক হাজার ৫৩০ জনের মধ্যে এন্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৯৮৭ জনের এবং পাওয়া যায়নি ৫৪৩ জনের মধ্যে।

সেই হিসেবে গবেষণায় অংশ নেয়াদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের শরীরে এন্টিবডি পাওয়া গেছে।

শনিবার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।

গবেষণা কাজে এস আলম গ্রুপ ও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন আর্থিক সহযোগিতা করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক