১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অটোরিকশায় ধাক্কা দেওয়া ট্রেনটি আরও আগে কেন থামল না?

ব্রেক করার পর কত দূর যাবে, সেটা নির্ভর করে ট্রেনের গতি, ধরন ও বগির সংখ্যার ওপর। বাস-ট্রাকের মতো তাৎক্ষণিক ট্রেন থামানো যায় না, বলছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2025, 11:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

রামুর রশিদনগর এলাকায় শনিবার লেভেল ক্রসিংয়ে উঠে পড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে অনেক দূর টেনে নিয়ে যায় ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’, যে ঘটনায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের। 

ব্রেক করার পরও প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে থামে আন্তঃনগর ট্রেনটি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই এলাকায় বিক্ষোভ করেন। তারা বলেন, ট্রেনটি আরও আগে থামলে এতজনের মৃত্যু হয়ত এড়ানো যেত। 

কিন্তু রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, চাইলেই পূর্ণ গতিতে থাকা একটি ট্রেন তাৎক্ষণিক থামানো যায় না। 

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফুল লোডের একটি আন্তঃনগর ট্রেন ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলে। এ গতিতে চলা ট্রেন চাইলেই হার্ড ব্রেক করতে পারে না। ব্রেক করার পর কমবেশি ৪৪০ গজ দূরে গিয়ে থামতে পারে।”

 “কক্সবাজার এক্সপ্রেস ফুল লোডেড এবং সেসময় ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। ট্রেনটিতে সব মিলিয়ে বগি ছিল ২৩টি।” 

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রশিদনগরের ওই লেভেল ক্রসিংটির অননুমোদিত। সেটিতে কোন সিগন্যাল বা ব্যারিয়ার ছিল না। কক্সবাজার এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে থেমেছে।”

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যাবস্থাপক (ডিআরএম) এবিএম কামরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোন ট্রেন ব্রেক করার পর কত দূরে গিয়ে থামবে, সেটি নির্ভর করে ট্রেনের ওই সময়ের গতি, ট্রেনের ধরন এবং তার কোচের সংখ্যার ওপর। বাস-ট্রাকের মতো চাইলেই কোনো ট্রেন তাৎক্ষণিক ব্রেক করে থামানো যায় না।”

এতে হিতে বিপরীত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “সে কারণে ট্রেন ব্রেক করার পর কিছুটা দূরে গিয়ে থামে।”

চট্টগ্রাম-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সবচেয়ে বেশি গতিতে চলা ট্রেনগুলোর মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেস একটি। বেশি গতিতে চলা সুবর্ণ এক্সপ্রেস বা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রেক কষার পর কমবেশি ৭০০মিটারের মধ্যে গিয়ে থামে। 

ডিআরএম কামরুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই দূরত্ব বা তার চেয়ে কিছু বেশি দূরে গিয়ে থেমেছে বলে মনে হয়। 

রামু স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আখতার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের স্টেশন থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই লাইনে আন্তঃনগর ট্রেন সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে পর্যন্ত চলতে পারে। এটি কক্সবাজার স্টেশন থেকে সাড়ে ১২টার দিকে ছেড়ে আসে।”

কক্সাবজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলের সময় চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে বিরতি দেয়। 

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ব রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে। 

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানান ডিআরএম কামরুজ্জামান। 

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের ৩ জন একই পরিবারের