Published : 05 Sep 2025, 02:15 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ‘চাপে পড়ে’ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এম আকাশ।
তিনি বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ছাত্রদের ইচ্ছায় ড. ইউনূস- সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাকে সমর্থন দিয়েছিল। আমরা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বলেছিলাম, আপনি গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন।
“কিন্তু আমরা দেখলাম, ইউনূস সেই পথে গেলেন না, তিনি ‘অপ্রত্যক্ষভাবে’ রাজনৈতিক দল বানানোর কৌশল নিলেন। বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেন। করিডোর দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন।”
শুক্রবার সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা শাখার ত্রয়োদশ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার সংষ্কারের নামে সাত হাজার পৃষ্ঠার দলিল রচনা করেছেন মন্তব্য করে এম এম আকাশ বলেন, “এ অবস্থায় মানুষ নির্বাচন নিয়ে হতাশ হতে লাগল, নির্বাচন হবে কি হবে না, সেই প্রশ্ন দেখা দিল। প্রশ্ন উঠল ইউনুস কার, কোন অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন?
“তখন তিনি একদিন লন্ডন গেলেন। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বললেন। বোঝা গেল, তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাচন দিতে চান না, চাপে পড়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে, উনি যে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন, সেখান থেকে কীভাবে নামবেন বুঝতে পারছেন না।”
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী পার্টির উত্তরসূরি হলেও তারা মুক্তিযুদ্ধের পতাকা ফেলে দিয়েছিল। রাজাকারদের সঙ্গে আপস করেছিল। এখন তারা ক্ষমতায় এসে যেতে চাচ্ছে।
“সিপিবি মুক্তিযুদ্ধ আর বাহাত্তরের সংবিধানের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।”
সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগি পাহাড় মোড়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এম এম আকাশ। পার্টির পতাকা উত্তোলন করেন চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা। এসময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন দলের সংস্কৃতি শাখার কর্মীরা।
অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য মৃণাল চৌধুরী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকার মিছিল বের হয়। এরপর নগরীর কাজির দেউড়িতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে শুরু হয়েছে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন।