Published : 20 Aug 2026, 07:12 PM
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেক আইনজীবী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির এর আদালতে বৃহস্পতিবার মামলার সাক্ষী আইনজীবী ফরিদুল আলম সাক্ষ্য দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আইনজীবী ফরিদুল আলম মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়ছেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী।
“ফরিদুল আলম সাক্ষ্যে বলেছেন, ঘটনাস্থলে তিনি কমলা ও নীল রঙের পোশাক পরিহিত দুজনসহ কয়েকজনকে সাইফুল ইসলাম আলিফের ওপর ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে দেখেছেন। পরে আইনজীবী ও স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় তারা আলিফকে উদ্ধার করেন। ওইদিন আগেও একবার আলিফের ওপর হামলার চেষ্টা হলে তারা সবাই মিলে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করেছিলেন।
“সাক্ষ্য দেওয়ার পর অন্য আসামিদের পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করা হলেও মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তাকে জেরা করা হয়নি।”
আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, তারা মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন। উচ্চ অদালতে সেই আবেদনের শুনানি হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে তারা জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
এছাড়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তার আইনজীবীর করা জামিন আবেদনও শুনানি শেষে আদালত নামঞ্জুর করেছেন বলে তথ্য দেন তিনি।
এ দিন আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা সশরীরে শুনানিতে হাজির ছিলেন। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২৭ জন আসামি কারাগারে আছেন। পলাতক আসামি ১২ জন।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এ সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রিজন ভ্যানে চিন্ময়কে পুলিশ নেওয়ার সময় বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।
আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই ছিলেন নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
ঘটনার সময় পুলিশ হেফজতে থাকা চিন্ময়কে কেন প্রধান আসামি করা হল সে ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সেদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের কারণে অন্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবীর উপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
“হুকুমদাতা হিসেবে চিন্ময় দাস এই মামলার প্রধান আসামি। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।”