Published : 23 May 2026, 01:08 PM
‘দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের মোট ১৮টি পরিচালক পদে লড়ছেন ৫৩ জন; তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেলের মধ্যে একটি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে সব প্রার্থীর নাম রয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বেলা ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। কেন্দ্রের বাইরেও ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
নির্বাচনে সাধারণ (অর্ডিনারি) গ্রুপে ৪ হাজার এক জন এবং সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) গ্রুপে ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোট দেবেন।
এবার সাধারণ গ্রুপের ১২টি পরিচালক পদে প্রার্থী ৩৮ জন এবং সহযোগী গ্রুপের ৬টি পরিচালক পদে প্রার্থী আছেন ১৫ জন। দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা ছাড়াও এসব পদে আরো প্রার্থী আছেন।
এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেলের একটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন 'ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম' এবং আরেকটি চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে 'সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ'।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার আমিরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "প্রায় এক যুগ পর ভোটের মাধ্যমে চেম্বারের নেতৃদ্ব নির্বাচিত হচ্ছে। উপস্থিতিই বলে দেয় সদস্যরা নির্বাচনকে কিভাবে গ্রহণ করেছেন।
"ভোট হল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বর্জনে কোনো অর্জন নেই। নির্বাচনে যারাই জয়ী হবেন সবাইকে স্বাগতম। সবাই মিলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করব।"
ব্যবসায়ী নেতা ও চেম্বারের সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "দীর্ঘদিন পর ভোট হচ্ছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যা আছে। নির্বাচিত নেতৃত্ব সেসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশা।"
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ব্যবাসয়ী সংগঠনে ভোট গ্রহণ প্রয়োজনীয়। কেননা নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। “আশা করি যারাই নির্বাচিত হবেন সবাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।"
চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম বেলা ১২টায় জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ ভোটার ভোট দিয়েছেন। কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
এদিকে শনিবারের ভোট গ্রহণকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের এই ঘোষণা দেয় 'সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ'। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদেরও ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানায় এই প্যানেলের নেতৃবৃন্দ।
'স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা' প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা অভিযোগ করে, অতীতে ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তাদের অন্যতম দাবি, সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ রাখা। বর্তমানে সদস্যদের ভোটে শুরুতে পরিচালকরা নির্বাচিত হন। পরে পরিচালকরা সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও সভাপতি নির্বাচন করেন।
এবার ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের সময় চেম্বার প্রদত্ত ভোটার আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
ভোট গ্রহণের নিয়ম অনুসারে ১৮টি পরিচালক পদের প্রতিটিতে ভোট দিতে হবে ভোটারদের এবং ব্যালট পেপার ভাঁজ করা যাবে না।
২০১৩ সালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সবশেষ ভোট হয়। এরপর থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছিল।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সিসিসিআইয়ের পুরো পরিচালনা পরিষদ পদত্যাগ করেছিল। এরপর তিন দফায় তিনজন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
এরপর ঘোষিত তফসিল অনুসারে গত বছরের ১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক রিট ও সালিসি আদালতের সিদ্ধান্তে একাধিকবার নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল।
চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসায়ীদের ভোটে ১২ জন সাধারণ শ্রেণিতে এবং ৬ জন সহযোগী শ্রেণিতে পরিচালক নির্বাচিত হন।
এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশনে তিনজন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হয়।
এরপর পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত হন সভাপতি ও দুই সহসভাপতি।
এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের মোট ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।