প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সফল: হাছান

“সবচে বড় অর্জন হচ্ছে- ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যসহ বিনাশুল্কে পণ্য রপ্তানির করার সুযোগ,” বলেন তথ্যমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2022, 02:27 PM
Updated : 9 Sept 2022, 02:27 PM

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বিএনপি ‘দৃশ্যমান কোনো অর্জন’ না দেখলেও সেই সফরকে ‘সফল ও ফলপ্রসূ’ বলছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভারত সফর অত্যন্ত সফল এবং ফলপ্রসূ।

“তন্মধ্যে সবচে বড় অর্জন হচ্ছে ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যসহ বিনাশুল্কে পণ্য রপ্তানির করার সুযোগ, যার জন্য বহু বছর ধরে বাংলাদেশ চেষ্টা করে এসেছে।”

বাংলাদেশের জন্য ‘অনেক কিছু’ নিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “অথচ এই ভারত সফর নিয়ে বিএনপি নানা ধরনের কথা বলেছে, এখন নিশ্চয়ই চুপসে গেছে। কিন্তু এর পরও বিএনপির ফখরুল সাহেবেরা আজকালের মধ্যে কিছু একটা বলবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত চমৎকার, ফলপ্রসূ হয়েছে।”

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘ন্যায্যতার ভিত্তিতে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকারই ভারতের কাছ থেকে সমস্ত কিছু আদায় করেছে। ১৯৭৪ সালে ছিটমহল চুক্তি হয়েছে। সেই ছিটমহল আমাদের অধিকারে চার দশকে কেউ আনতে পারেনি। তারা কোন দেশের নাগরিক সেটা বলতে পারত না।

“জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ছিটমহলগুলো আমাদের অধিকারে এনেছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে যে সম্পর্ক, সেটির বড় প্রমাণ হচ্ছে- আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের সাথে মামলা করে সমুদ্রসীমা জয়লাভ করেছি।”

শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ উন্নীত হয়েছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সেটির প্রমাণ হচ্ছে ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পণ্য বিনাশুল্কে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। বাংলাদেশের হাজার পণ্যের মধ্যে মাত্র ২০টি পণ্য ছাড়া ভারত আমাদেরকে ট্যারিফ সুবিধা দিয়েছে, যেটি বিএনপি আদায় করতে পারে নাই।

“খালেদা জিয়া তো ভারতে গিয়ে আমাদের গঙ্গার পানি হিস্যার কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলেন। সেটিও আদায় করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।”

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) আয়েজিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন হাছান মাহমুদ।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট সাংবাদিকদের একটি ‘আশাভরসার স্থল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি ছিল, একটা কল্যাণ তহবিল গঠন করার। প্রথমে একটা কল্যাণ তহবিল গঠন হয়েছিল।

“পরে প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমি কতদিন থাকি ক্ষমতায় জানি না, একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দিতে চাই। উনারই আগ্রহে সংসদে পাস করা আইন দ্বারা সংবিধিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট।”

তিনি বলেন, “কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণের ক্ষেত্রে আমরা কখনও কে কোন দল বা মতের- সেটি দেখি না। আমি দল করি- আমি দলীয় সরকারের মন্ত্রী, কিন্তু যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছি তখন সবাইকে দুই চোখে সমভাবে দেখার চেষ্টা করি।

“রাষ্ট্রের সাহায্য যেন সবাই পায়। যারা প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে কালকেই সরকার নামিয়ে দেয়, আমাদের বিরুদ্ধে গলা ফাটায়, তাদেরকেও আমরা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সহায়তা করেছি।”

সারাদেশের সব সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যেন সাংবাদিকদের জন্য গ্রুপ বীমার ব্যবস্থা করে, সে অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি কিন্তু আমাদের ওয়েজবোর্ডের মধ্যেও বলা আছে। সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো প্রতিটা মিডিয়া হাউজে তাগাদা দিবেন ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী যেন সাংবাদিকদের জন্য গ্রুপ বীমার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

“এটি করলে একজন সাংবাদিক অসুস্থ হলে এবং মৃত্যবরণ করলে বীমা কোম্পানি থেকে টাকা পাবে। এতে যে খুব ব্যয় হয় তা কিন্তু নয়, এটি ইচ্ছা এবং চর্চার ব্যাপার।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ৩৬ জন সাংবাদিকের হাতে ৩৪ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

সিইউজের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সম্পাদক সবুর শুভ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক