১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ: ইসলামী ব্যাংক কর্মীর ১১ বছরের কারাদণ্ড

এ মামলার অপর আসামি শেখ আহমদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ: ইসলামী ব্যাংক কর্মীর ১১ বছরের কারাদণ্ড
চট্টগ্রামে পরীর পাহাড়ে অবস্থিত আদালত ভবন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Apr 2026, 02:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

এক যুগ আগের গ্রাহকের সোয়া ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মচারীর ১১ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। 

বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান।

দণ্ডিত আশরাফুল আলম চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে মেসেঞ্জার কাম গার্ড পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি নড়াইলের লোহাগড়া থানার দিঘলিয়া পূর্বাপার গ্রামের সাহাব উদ্দিন ঠাকুরের ছেলে। 

আদালতের পিপি রেজাউল করিম রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি তর্ক শুনানি শেষে আসামি মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ধারায় মোট ১১ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। আলাদা ভাবে এসব সাজা কার্যকর হবে। 

“আসামি মো. আশরাফুল আলম পলাতক। এই মামলার অপর আসামি শেখ আহমদকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় শেখ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।”

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের লাকসাম শাখা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া শাখায় আসেন আশরাফুল আলম। 

কিছুদিন পর লোহাগাড়ার একটি মোবাইলের দোকান থেকে দামি একটি ফোন কেনেন তিনি। পরে একই দোকানে গেলে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পারেন। 

এর কিছুদিন পর ২০১৪ সালের ২০ জুলাই ব্যাংকের এক গ্রাহক নিজ হিসাব থেকে আড়াই লাখ টাকা উত্তোলন করতে চেক জমা দিলে জানা যায়, ওই হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। 

পরে হিসাব বিবরণী যাচাই করে জানা যায়, ওই গ্রাহকের টাকা শেখ আহমদ নামে অন্য এক গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়েছে এবং সেই টাকা তুলেও নেওয়া হয়েছে। 

মামলার এজাহারে ইসালামী ব্যাংকের লোহাগাড়া শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ঈসা বলেন, একটি ভুয়া চেক নম্বরের মাধ্যমে ওই টাকা শেখ আহমদ নামক গ্রাহকের হিসাবে স্থানান্তর হয়েছিল। 

কাছাকাছি সময়ে দামি মোবাইল কেনায় সন্দেহ হলে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের বাসায় যায়। সেখানে তারা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রাহকের চেক, সিল, নগদ টাকা ও ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার খাতাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পায়। 

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাংকের কর্মী আশরাফুল আলম স্বীকার করেন, এর আগে ব্যাংকের গ্রাহক জামাল উদ্দিনের এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে মিনু আক্তার নামের আরেক গ্রাহকের হিসাবে স্থানান্তর করেন। আবার পরে মিনু আক্তারের চেকবই থেকে চেক চুরি করে সেই টাকা তুলেও নেন। 

আশরাফুল আলম আরো জানান, এভাবে বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়ে আরো ৭ লাখ টাকা অন্য একটি ব্যাংকে থাকা তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করেছে। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসালামী ব্যাংক বাংলাদেশের লোহাগাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ঈসা বাদী হয়ে মামলা করেন। 

এ মামলায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হল।