১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা বললেও বিএনপি সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

“জিয়াউর রহমানের প্রতিশ্রুতি বিএনপির পরবর্তী নেতৃবৃন্দ অনুসরণ করে নাই বা সেটাকে বাস্তবায়ন করতে পারে নাই।”

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 07:03 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা বললেও সেই দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। 

রোববার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘পাহাড়ে জুলাই-সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের সকল জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে নাই। যেটা তার প্রতিশ্রুতি ছিল, তার দর্শন ছিল, জিয়াউর রহমানের প্রতিশ্রুতি ছিল, বিএনপির পরবর্তী নেতৃবৃন্দ সেটাকে অনুসরণ করে নাই বা সেটাকে বাস্তবায়ন করতে পারে নাই।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নৃগোষ্ঠী থেকে একজনমাত্র প্রতিনিধি রাখা হল মন্ত্রিসভায়। নির্বাচনের কয়েকদিন পরে কিন্তু তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।”

এনসিপি নেতা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের এখন যিনি দায়িত্বে আছেন, উনি একজন সমতলের বাঙালি। উনি পাহাড়ের কেউ না, পাহাড়ের বাঙালিও না এবং পাহাড়ের অন্য কোনো নৃগোষ্ঠীর থেকেও প্রতিনিধিত্ব করছেন না। কিন্তু তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

“এখানে বোঝা যায়, এ সরকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী—সেখানকার বাঙালি হোক অথবা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী, অন্য সকল জনগোষ্ঠী হোক—কাউকেই এ সরকার ধারণ করে না।” 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভোটের আগে সব সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, বিএনপিও এটা করছে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না।”

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে অভিযোগ করে এনসিপি আহ্বয়ক বলেন, “নির্বাচনের আগে অনেক কিছু বলতে হয়, সেজন্য তারা বলেছে, জুলাই সনদে সাইন করেছে। একইভাবে প্রত্যেকটা কমিউনিটির কাছে, হিন্দুদের কাছে গিয়েও তারা মিথ্যাভাবে বলেছে যে তাদেরকে ভোট না দিলে তাদের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।” 

‘পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি অত্যন্ত জটিল’

বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বা পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি অত্যন্ত জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান আসলে সম্ভব না। সেখানে যারা পাহাড়ি নৃগোষ্ঠী আছে, তারা যেমন বঞ্চিত, তাদের জাতি পরিচয়ের কারণে তারা নির্যাতিত হয়, সমান মর্যাদাসহ-নাগরিক অধিকার পায় না। 

“একইভাবে পাহাড়ের যারা বাঙালি রয়েছে, তারাও নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার। আবার তাদের মধ্যে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিভাজন বা দ্বন্দ্বের কথা শুনি।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান। এটা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে, সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে সংলাপের মাধ্যমে একটা রাজনৈতিক সমাধানের দিকে যেতে।” 

সাম্প্রতিক বন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকজন বঞ্চিত হয়েছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন সময় আমরা দেখি যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নানাভাবে বঞ্চনার শিকার, সেখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ থাকলেও সেখানে দুর্নীতি হয়, লুটপাট হয়, সেখানে জবাবদিহিতা থাকে না। 

“আমরা পাহাড়ে একটা ভিন্ন রকম চাঁদাবাজির কথাও শুনেছি, যেখানে একটা আলাদা ধরনের সন্ত্রাসও আছে। ফলে সেগুলোরও সমাধান করা লাগবে। জবাবদিহিতা এবং সুশাসন সমতল থেকে পাহাড় সব জায়গায় নিশ্চিত করা লাগবে।”