১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাসে বাড়তি গেছে ‘৪০ হাজার কোটি টাকা’: অর্থমন্ত্রী

“আপনারা মনে করছেন, আমি অর্থমন্ত্রী অর্থের ভাণ্ডার নিয়ে বসে আছি।”

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 May 2026, 01:45 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:17 PM

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ‘৪০ হাজার কোটি টাকা’ খরচ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বাংলাদেশ যে ‘খুব খারাপ’ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে কথাও বলেছেন তিনি। 

শনিবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে ‘চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল’ এর নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন।

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলায় চালায় পারস্য উপসগারীয় বিভিন্ন দেশে, যেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অচল হয়ে পড়ায় দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। নানা পদক্ষেপে মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার।

পশ্চিম এশিয়ার এ যুদ্ধের কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, “আপনারা মনে করছেন, আমি অর্থমন্ত্রী অর্থের ভাণ্ডার নিয়ে বসে আছি। একটা একটা চেক লিখে দেব, আর টাকা চলে আসবে। বিষয়টা অত সহজ না। তারমধ্যে আমরা একটা খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি। 

“মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অংকের একটা টাকা চলে গেছে তেল-গ্যাসের মধ্যে। প্রায় ৪ বিলিয়ন মানে ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। এরআগে বিগত সরকারগুলো থেকে আমরা যেটা পেয়েছি সেটা ‘মাইনাস, মাইনাস অ্যান্ড মাইনাস’। এখানে যোগ কিছু নাই। সবগুলো ঋণাত্মক এখানে। তো এগুলো আবার ‘মেইকআপ’ করতে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এমনকি অনেকগুলো বিল পর্যন্ত পেমেন্ট করে নাই তারা। পাওয়ার সেক্টরে, এনার্জি সেক্টরে ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বাকি রেখে চলে গেছে। এগুলো আবার সব পরিশোধ করতে হচ্ছে। সুতরাং অর্থনৈতিকভাবে বিরাট একটা ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। 

“এখান থেকে প্রথমে আমরা বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে যাবে। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন আমি বলেছি, দুই বছর সময় লাগবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।” 

এর আগে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের একটা বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এবার আমাদের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছি। কারণ আমরা যে সর্বজনীন ‘হেলথ কেয়ার, প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ার ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের’ কথা বলছি এটা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। 

“এ অধিকার প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার অধিকার থাকে। এ স্বাস্থ্য সেবাকে আরো উপরের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। যারা হতদরিদ্র, যাদের দারিদ্র্যতার কারণে স্বাস্থ্য সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের উপরের স্তরের যে চিকিৎসাগুলো দরকার সেগুলোর জন্য আমরা ‘প্রাইভেট সেক্টরের অ্যারেজমেন্টে’ যাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালগুলোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমরা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সাথে কথা বলছি। রোগীকে আমরা তাদের কাছে পাঠাব। তারা তাদের চিকিৎসা করবে। বিল সরকার দিয়ে দেবে। যারা হতদরিদ্র, দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করতে পারছে না, তাদের জন্য বাজেট বড় করা হচ্ছে।

“শুধু বাজেট দিয়ে কিছু হবে না, স্বাস্থ্যখাতে যারা আছেন তাদের সহযোগিতা লাগবে। সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্য সেবা জনগণ পায় কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় ভবন করলে কোনো উপকার হবে না, যারা ‘অপারেট’ করে তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাদের মধ্যে সততার অভাব যদি হয়, বরাদ্দ কোনো কাজে আসে না।”

আমির খসরু বলেন, “বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ হয়েছে, তার অধিকাংশ দুর্নীতির মাধ্যমে চলে গেছে। জনগণ কোনো স্বাস্থ্য সেবা পায়নি। তাই আমি বলছি যে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবার হবে, সেটা সকলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।