Published : 01 Aug 2026, 10:14 PM
চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে ২৫ বছর মেয়াদী যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে তাতে নগরীর এলাকা ছাড়িয়ে পাঁচটি উপজেলাকেও অর্ন্তভুক্ত করার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন।
এসব উপজেলা হল- আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাউজান ও হাটহাজারী।
সিডিএর চেয়ারম্যান বলেন, “এই পুরো এলাকার মহাপরিকল্পনা যেদিন অনুমোদন হবে, তারপর থেকে যেই সেবাদান প্রতিষ্ঠান কাজ করুক না কেন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী যদি তারা করে তাহলে এই নগর একটা নান্দনিক নগর হবে।”
বুধবার সিডিএ ভবনে ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের খসড়ার উপর জনমত গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৫ থেকে ২০৫০ পর্যন্ত ২৫ বছর মেয়াদী এ মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করতে চায় সিডিএ।
রোববার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই খসড়া মহাপরিকল্পনার ওপর জনমত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
নাগরিকরা সিডিএ ভবনের চতুর্থ তলার হলরুমে গিয়ে খসড়াটির প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি দেখতে পারবেন।
প্রকৌশলী বেলায়েত বলেন, “উন্নয়নের লক্ষ্যে নগরীর পরিধি অনেক বাড়িয়েছি মাস্টারপ্ল্যানে।”
মূল শহরের উপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পরিকল্পিত মিনি টাউন ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব মহাপরিকল্পনায় অর্ন্তভুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষ কি ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত- সেসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়েই আমরা পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করতে চাই।
“পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোর অভিজ্ঞতা, বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমান নগরায়নের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নতুন মহাপরিকল্পনার খসড়া করা হয়েছে। নগরীর ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা, আবাসন, পরিবেশ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর, জলাশয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “নগরীতে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং ভূমি ব্যবহারের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করে গড়ে ওঠেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিডিএ থেকে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নেওয়া হলে পরবর্তীতে সেটি হাসপাতাল বা ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
“এতে সড়কে যানজট, পার্কিং সংকট, জনসমাগমের চাপ এবং আশেপাশের পরিবেশে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে।”
চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রথম মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় ১৯৬১ সালে। এরপর ১৯৯৫ সালে আরেকটি এবং ২০০৮ সালে একটি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান হয়। সে হিসাবে এবারের মহাপরিকল্পনাটি চতুর্থ।
খসড়ার ওপর মতামত সরাসির সিডিএতে গিয়ে কিংবা ওযেবসাইটে www.cda.gov.bd দেওয়া যাবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়েও মতামত দিতে পারবেন কেউ।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আবু ঈছা আনছারী প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে থরেন।
এসময় সিডিএর বোর্ড সদস্য এস এম জাহিদুল করিম, স্থপতি ফারুক আহমেদ, প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ও মো. নজরুল ইসলাম, সার্বক্ষণিক সদস্য মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।