Published : 23 Aug 2026, 08:24 PM
চট্টগ্রামে তিন দিন আগে ছুরিকাঘাকে মো. সাকিব নামে এক যুবক খুনের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের ভাষ্য, ‘মোবাইল নিয়ে ফেলা নিয়ে সামাজিক সালিস’ করার ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরী, বোয়ালখালী উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং ঈদগাঁ এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাব।
বিকালে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহিদুল ইসলাম এসব তথ্য দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইমন, মো. রায়হান, শাহেদ সালমান, মোহাম্মদ হোসেন, হাসান মোহাম্মদ রবিউল, সাকিব হোসেন, মো. আসমান, মো. ফয়সাল। তাদের মধ্যে ইমন, রায়হান ও শাহেদ সালমান এজাহার নামীয় আসামি। অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়ায়।
বিকালে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার তাওহিদুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার ইমন স্থানীয় এক যুবকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সাকিব বিষয়টির প্রতিবাদ করে এবং মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের পর স্থানীয়রা সালিস বৈঠক করেন। বিষয়টি নিয়ে মূলত গ্রেপ্তার ইমনের সঙ্গে সাকিবের বিরোধের শুরু হয়।
“এর জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাকিব তার প্রতিবেশী এক যুবকসহ অটো রিকশা করে যাওয়ার সময় তাদের গতিরোধ করে ইমন, রায়হান ও সালমান। ইমন রিকশা থেকে সাকিবকে নামিয়ে ছুরিকাঘাত করে। পরে তার সাথে থাকা অন্যরাও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সাকিবকে রাস্তায় ফেলে রেখে ইমন, রায়হান ও সালমান তাদের সহযোগী আসমান ও হোসেনের বাইকে করে দ্রুত চলে যায়।”
র্যাব বলছে, অভিযুক্তরা বোয়ালখালী উপজেলায় গ্রেপ্তার ফয়সালের গ্যারেজে গিয়ে রক্ত মুছে খুনে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল লুকিয়ে রাখে। ছুরিটি নিয়ে ইমন হাটহাজারি এলাকায় তারা নানা বাড়ি চলে যায়। পরে সবাই মিলে কক্সাবাজার গিয়ে আত্মগোপনে থাকে।
র্যাব কর্মকর্তা তৌহিদুর বলেন, “র্যাবের অভিযানে প্রথমে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে পালানোর জন্য ব্যবহার করা দুটি মোটরসাইকেলসহ চালক আসমান ও হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে বোয়ালখালী থেকে ফয়সালকে আটক করে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল এবং তার দেওয়া তথ্যে কক্সবাজার থেকে ইমন, রায়হানসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া ইমনের তথ্যে হাটহাজারিতে তার মামা বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটা জব্দ করা হয়েছে।”