Published : 04 Sep 2026, 09:29 PM
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “আপনাদের সমস্যা থাকলে সরাসরি আসবেন। আমার দরজা সবার জন্য খোলা। কিন্তু কাউকে আপনাদের সমস্যার ফেরিওয়ালা হইতে দিয়েন না। ওই জায়গাটায় সমস্যা হয়।”
“যারা ফেরিওয়ালা হয় তারা সমস্যার সৃষ্টি করে। তারা ব্যবধান সৃষ্টি করে। তারা বিভেদ সৃষ্টি করে নিজের স্বার্থে। ফেরিওয়ালার মূল উদ্দেশ্য নিজেকে প্রমোট করা। সেটা করতে গিয়ে সে বিভেদ সৃষ্টি করে। আমি আপনাদের ফেরিওয়ালা। আমরা আপনাদের ফেরিওয়ালা। কাউকে কোনো ফেরিওয়ালা বানাইয়েন না আল্লাহর ওয়াস্তে।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্ম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, “আমরা ওপেন গভর্নমেন্ট। কারো মাধ্যমে না, সমস্যা থাকলে সরাসরি আসুন। সনাতন ধর্মের লোকজন আমাদের কাছে আসছেন। তাদের সমস্যা আমরা সমাধান দিচ্ছি। সার্বিক সমস্যা যেটা, সেটার সমাধান দিতেও আমরা কাজ করছি। পরিবর্তন ক্রমান্বয়ে দেখতে পাবেন।”
বিএনপি সরকারের ছয় মাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ‘গুণগত পরিবর্তন হয়েছে’ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সবকিছু হয়নি, কিন্তু গুণগত পরিবর্তন হয়েছে, যা পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন কিন্তু চলতে থাকবে। আমি বিশেষ কোন ঘটনা এখানে উল্লেখ করতে চাই না। আমি শুধু একটা কথা বলব, এই বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের সব গোষ্ঠীর ভোটের মাধ্যমে এই সরকার, বিপুল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।
“সনাতনী গোষ্ঠী বলেন, মুসলমান বলেন, বৌদ্ধ বলেন, খ্রিস্টান বলেন, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বলেন- সবাই লাইন ধরে ভোট দিয়েছে। খোলাখুলিভাবে ভোট দিয়েছে। অনেকদিন পরে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন হয়েছে যে নির্বাচনে দেশের মানুষ অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।”
বিগত দিনে একটি ‘অরাজনৈতিক সরকারের কারণে’ সমাজে বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে খসরু বলেন, “আমি বলব না সেটা কালকে সকালের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যে পথে চলছি পথটা ঠিক আছে কিনা? পথটা যদি ঠিক থাকে, আমরা সেই জায়গায় যেতে পারব।”
সব গোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হয়েছে, মন্দিরেও সেই অনুদান দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমামকে যা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতকেও তা দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশে কোন সময় হয় নাই। এছাড়া সরকার পরিচালনায় বিভিন্নভাবে জনগণের জন্য যে বিষয়গুলো দেওয়া হচ্ছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিষয়গুলো মেনে চলতে বাধ্য করছি।
“এটা সূচনা। এটা অব্যাহত থাকবে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি জাতির কাছে। সামাজিক সম্প্রীতি যদি ফিরিয়ে আনতে না পারি, দেশ কোনদিন সামনে এগোতে পারবে না। কোনো গোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো দেশ এগুতে পারে না। কোনো দেশ তার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।”
মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ধর্ম সম্মেলন উদ্বোধন করেন কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য্য। অনুষ্ঠানে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার সভাপতিত্ব করেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।