Published : 26 Dec 2024, 06:03 PM
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের আগুন নাশকতা কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি বলেছেন, “আগুন লাগছে, নাহিদ আর আসিফের রুম পুড়ে গেল। এর আগে সজীব ওয়াজেদ জয় বারবার বলেছেন, ‘কোনো প্রমাণ পাবেন না আমাদের ব্যাপারে’ এবং তিনি কিন্তু তথ্য আইসিটি উপদেষ্টা ছিলেন। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের নায়ক ছিলেন।
“তার ডিপার্টমেন্টটা পুড়ে গেছে গতকাল রাতে, নাহিদ যেটার দায়িত্বে এখন। সরকারকে আমি বলব সিরিয়াসলি তদন্ত করতে কোনো স্যাবোটাজ আছে কি না।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘পলিসি বেজড পলিটিকস ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য পাঁচ প্রস্তাব’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গত ১৭ ডিসেম্বর এক সভায় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী 'পরীক্ষার মাধ্যমে' জনপ্রশাসনে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া এবং এ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোটা ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ তুলে ধরেন। সম্ভাব্য এ প্রস্তাবের প্রতিবাদে রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ফুয়াদ বলেন, “সচিবালয়ে যে আন্দোলন করছে, এই যে আওয়ামী সচিব লীগ- যার ৮০ শতাংশ গত ১৬ বছর দালালি করছে, রাতের ভোটের করছে, চুরি-ডাকাতি করে বিদেশে টাকা পাচার করছে; তারা সাডেনলি গণতান্ত্রিক হয়ে গেছে। গণঅভুত্থ্যানের পক্ষের শক্তি হয়ে গেছে।
“অতএব এখানে আসলে কী হচ্ছে- সেটা সিরিয়াসলি স্ক্রুটিনাইজ হওয়া দরকার এবং একটি কনক্লুশনে আসা দরকার।”
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জুন, জুলাই ও অগাস্টের পরিবর্তনের ন্যাচারটা বোঝেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক কর্মীরা খুনের শিকার হয়েছেন। গুম হয়েছেন।
“কিন্তু দিন শেষে সারা দেশের মানুষ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে রাস্তায় নেমে আসেনি, এটাই সত্য; এটি মেনে নিতে হবে।”
ছাত্রদের নেতৃত্বেই জনতা সড়কে নেমেছে মন্তব্য করে ফুয়াদ বলেন, “শেষ গোলটা ছাত্ররাই দিয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা পালিয়েছেন। সবার অবদান যেমন আছে, ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে সারাদেশ নেমে এসেছে- এটা স্বীকার করতে হবে।
“ছাত্রসমাজ কী চেয়েছে? দেয়ালে দেয়ালে যে লেখা হয়েছে, সেখানে কোথাও অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার কথা নেই। তারা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছে; ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত বিলোপ চেয়েছে। এই আকাঙ্ক্ষাগুলোকে তো ধারণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “সংস্কার ও নির্বাচন দ্বিমুখী কোনো বিষয় হিসেবে দেখি না; সংস্কার ও নির্বাচন একই প্যাকেজের অংশ। সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন সংস্কার বিষয়ক কমিশন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়ে গেছে।
“কমিশন বলেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করবে। এটি করতে করতে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যেতে পারে। তারপর নির্বাচন হবে।”
ফুয়াদ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐক্যমতের একটি কমিশন করার কথাও বলেছেন। এ কমিশন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলবে। কতটুকু সংস্কার হবে, সে বিষয়ে আলাপ করবে।
“এরপর তারা নির্বাচনের দিকে চলে যাবে। ফলে যে আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে পরিবর্তনটা হয়েছে, সেদিকেই যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জটাও বুঝতে হবে।”
‘রাজবংশের’ রাজনীতি ও ‘বস্তাপঁচা’ রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশ চলবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নতুন রাজনীতি হবে ইস্যুভিত্তিক। আপনার ভোগান্তি কীভাবে কমবে, সেটা নিয়ে আমাদের রাজনীতি। এবি পার্টির রাজনীতি হবে সেবা ও সমস্যা সমাধানের রাজনীতি।”
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, “রাষ্ট্রের টাকায় একটা প্রজেক্ট হলো, এতে কত রাজস্ব আদায় হয়? এই প্রকল্প হওয়ার আগে কি যথাযথ রিসার্চ হয়েছে? রাষ্ট্র একটা টানেল করেছে ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু সিম্পল রেভিনিউ অ্যাসেসমেন্টটা নেই।
“এখানে চারপাশের জনগোষ্ঠী কতটুকু উপকৃত হবে বা ট্রান্সপোর্টকে কতটা হেল্প করবে, তার অ্যাসেসমেন্ট নেই। ফ্লাইওভার পার হয়ে এলাম, একটা এক্সিট দেখলাম না। ১৭ কিলোমিটার ফ্লাইওভারে ১০টা এক্সিট করা দরকার ছিল। সিটিকে কানেক্ট করলেন কীভাবে?”
ফুযাদ বলেন, “রাষ্ট্রের টাকা খরচ তো মানুষের জন্য হতে হবে। উন্নয়ন না ভোগান্তি দেখছি। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুবিচার। আর এখানে উন্নয়ন প্রকল্পে মানুষের প্রাণ চলে যায়।
“রাষ্ট্র যে কিছু মানুষের লীলাখেলায় পরিণত হয়েছে, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। এত উন্নয়ন কাজে কোথাও নাগরিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে? দেশের পুরো উন্নয়ন কাজের সাথে নাগরিকদের যোগাযোগ নেই। এগুলো ডেভেলপমেন্ট নয় ডিজাস্টার ওয়ার্ক।”
চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনুষ্ঠানে এবি পার্টির তরফে পাঁচটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার মধ্যে আছে- নগর সরকার ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া মুনাফার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ চট্টগ্রামের উন্নয়নে ব্যয় করা, কর্ণফুলী নদী ও খালগুলোর যুগোপযোগী সংস্কার এবং নগরীর সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ; চট্টগ্রাম নগরীকে ‘ট্রেড কানেকটিভিটি হাব’ হিসেবে প্রস্তুত করা ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে পাহাড় পুনরূদ্ধার করা।
এবি পার্টির চট্টগ্রাম নগরের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান, সদস্যসচিব সৈয়দ আবুল কাশেম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।