Published : 19 Aug 2026, 02:03 PM
কারখানা বিক্রির নোটিস পেয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকায় একটি পোশাক কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন সেখানকার শ্রমিকরা।
দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার ওই অবরোধ মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের; এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।
‘ইত্যাদি জিনস লিমিটেড’ নামের ওই কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, মালিক পক্ষ কারখানাটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করার কথা জানিয়েছিল দুই সপ্তাহ আগে। এ কথায় শ্রমিকরা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ দাবি করেন।
এই দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানার অদূরে আতুরার ডিপো এলাকার সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় মুরাদপুর-অক্সিজেনমুখী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, মালিক বলেছেন ‘তিনি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করছেন না’। তবুও শ্রমিকার সড়ক ছাড়ছেন না।
বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকেও কারখানাটির কয়েকশ শ্রমিককে ওই সড়কে দেখা যায়, তাদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি।
ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য পাওনার দাবিতে বুধবার সকালে আতুরার ডিপো এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ‘ইত্যাদি জিনস লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
এক নারী শ্রমিক বলেন, “১৫ দিন আগে জানিয়েছে কারখানা বিক্রি করে দিছে। তারপর নোটিস দিছে অন্য একজন মালিকের কাছে কারখানা হস্তান্তর করে দিছে। তখন বলছে ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিবে। এখন আবার বলতেছে কারখানা বেচে নাই।
“আমরা এই কারখানার চাকরি করছি। নতুন মালিক কেন আমাদের পাওনা দিবে? দিলে এই মালিককেই দিতে হবে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইত্যাদি জিনস লিমিটেডের শ্রমিকরা অনেকক্ষণ ধরে আতুরার ডিপো এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আছেন। তাদের দাবি কারখানাটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। তাই তারা চাকরি ছেড়ে দিবে, তাদের সেজন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুবিধার টাকা দিতে হবে।
“কিন্তু মালিক এসেছেন, তিনি বলছেন, গার্মেন্টস বিক্রি করব না। শ্রমিকদের আমরা বলেছি, দাবিদাওয়ার বিষয়ে আমাদের উপস্থিতিতে মালিকের সাথে কথা বলে সমাধান করতে। কিন্তু সম্ভবত শ্রমিকদের নেতৃত্ব একমত নয়। আলোচনা চলছে। তারা আমাদের একবার বলে যান তারা রাজি। পরে আবার এসে বলেন রাজি না।”
অবরোধের কারণে সড়কে যানবাহান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আপাতত ওই সড়ক বাদ দিয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করলে যাত্রীরা স্বস্তি পাবেন।
“আমরা চেষ্টা করছি তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে নিতে।”