১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গ্রিন ইয়ার্ড’ না হলে জাহাজ ভাঙা কারখানা বন্ধ করতে হবে: নৌ উপদেষ্টা

“জুন মাস পার হয়ে গেছে। জুলাই চলছে। আগামী আইএমও সম্মেলন নভেম্বরে যখন হবে তখন এই প্রশ্নটা উঠবে।”

‘গ্রিন ইয়ার্ড’ না হলে জাহাজ ভাঙা কারখানা বন্ধ করতে হবে: নৌ উপদেষ্টা
ছবি: পিআইডি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2025, 10:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:27 PM

যেসব জাহাজ ভাঙা কারখানা ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ হতে পারবে না তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। 

এই শিল্প চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্য কোনো স্থানে গড়ে তোলা সম্ভব কি না, তা যাচাই করার কথাও বলেছেন তিনি।

শনিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ঘুরে দেখার পর তিনি বলেন, “যারা গ্রিন ইয়ার্ড হতে পারবেন না দুঃখজনকভাবে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মাত্র ১৬টা এখন পর্যন্ত গ্রিন সার্টিফিকেট নিয়েছে। বাকিগুলো এখন পর্যন্ত নেয়নি। 

“জুন মাস পার হয়ে গেছে। জুলাই চলছে। আগামী আইএমও (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন) সম্মেলন নভেম্বরে যখন হবে তখন এই প্রশ্নটা উঠবে। যে বাকি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোর কি হবে? তো সেটা এখনো পর্যন্ত আমি ঠিক জানি না। এটা নিয়ে হয়ত আইএমওর সাথে আমাদের একটা দর কষাকষি করতে হবে, বাড়ানোর জন্য।”

তিনি বলেন, “আবার এই বাড়তি সময়ের মধ্যে কতজন করতে পারবে। তাদের আর্থিক অবস্থা কী রকম। তারা আদৌ পারবে কিনা।” 

গ্রিন শিপ ইয়ার্ড করতে আর্থিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এই খাতের শিল্প মালিকরা সরকারি সহায়তা চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “অর্থায়নের বিষয়ে তাদের সমিতির তরফ থেকে তুললে শিপিং ও শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা করব। 

“আশা করি, আমি যাওয়ার পর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একটা প্রতিনিধি দল পাঠাবো। তারা যাতে এই বিষয়টি আলোচনা করতে পারে। এই মুহূর্তে আমি আলোচনা করতে পারছি না। যেহেতু আমি ওই মন্ত্রণালয়ের সাথে জড়িত না।”

এই খাতে পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “পরিবেশ ও উন্নয়ন দুটোই জরুরি। যেহেতু আমরা পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থায় চলে এসেছি। পরিবেশের বিষয়টা নিয়ে অচিরেই বসব আমরা।”

শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শনের পর উপদেষ্টা এই খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সাখাওয়াত বলেন, “এতটুকু জায়গার মধ্যে যখন ১১৩টা ইয়ার্ড হয় তখন এটা বিপদসংকুল হয়ে যায়। 

“এখন আমাদেরকে দেখতে হবে যে, আর কোন জায়গায় আমরা এটাকে স্থানান্তর করতে পারি কিনা। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ছাড়া বাইরে অন্য কোথাও করা যায় কিনা। সম্ভব কিনা সেটা দেখতে হবে।” 

জাহাজের ছোট-বড় শ্রেণির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বড় জাহাজ যেখানে আসতে পারবে না, সেখানে হয়ত ছোট জাহাজ আসতে পারবে। কিন্তু এই যে উপকূলটা, তারও কিন্তু প্রয়োজন আছে। 

“আপনারা জানেন যে, অতি শিগগিরই বে টার্মিনালের বিষয় এখানে শুরু হবে। এটা হবে হালিশহরে। সেখান থেকে ভাটিয়ারির দূর কতটুকু?” 

নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “টার্মিনালগুলো যখন হয়, তখন এর বিস্তৃতি অনেক বেশি হয়। এখন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিধি কত বড় হয়েছে। তাই এখানে একশ-দেড়শ ইয়ার্ড সম্ভব নাও হতে পারে। আমাদেরকে বিকল্প জায়গাও খুঁজতে হবে। 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ঘুরে দেখার পর নৌ পরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ঘুরে দেখার পর নৌ পরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

“যদি এটাকে শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, অনেক কাজ আছে যা আগে হয়নি। খুব বেশি নজর দিইনি। এখন নজর দেওয়া হবে।”

জাহাজ ভাঙা শিল্প অনেক এগিয়েছে এবং বিশ্বমানের হওয়ার মত অবস্থা হয়ে মন্তব্য করে সাখাওয়াত বলেন, “এই খাতের প্রতি এতদিন যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি। আমি মন্ত্রণালয়গুলোকে জানাব। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে চাই, এই কলেবর আরও বাড়ুক।” 

এ ক্ষেত্রে যদি জাহাজ নির্মাতারা এগিয়ে আসেন তাহলে আরও উন্নতি সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

২০০৯ সালে আইএমও এর হংকং কনভেনশন অনুসারে, তার  সদস্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং এই খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরনো জাহাজ ভাঙার সময় তা যেন মানুষ ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি না করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। 

পরিবেশ সম্মতভাবে জাহাজ ভাঙার জন্য শিপ ইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে রূপান্তরে সময় বেঁধে দেওয়া হয় চলতি বছরের ২৬ জুন পর্যন্ত। 

নৌ পরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাবিব আবদুল্লাহ, শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাজমুল, কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ করিম উদ্দিন।

পুরনো খবর:

সীতাকুণ্ডে কবির শিপ পরিদর্শনে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত