চট্টগ্রামের সড়কে সাইকেল ট্র্যাক চালু
অর্থমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে; হাঁটার জন্য পথ করে দিতে হবে।”
চট্টগ্রামের বিমানবন্দর সড়কে ‘নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের’ সুযোগ করে দিতে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক চালু করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দাবি, এটিই দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক।
শুক্রবার সকালে এ ট্র্যাকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম নগরে আরও সাইকেল ট্র্যাক করা হবে।
বন্দর নগরীর ২৭-৩০ ও ৩৬-৪১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আমির খসরু বলেন, “অনেকে সাইকেলে করে অফিসে আসা-যাওয়া করে; এটা যানবাহনের একটা বড় অংশ। বিশেষ করে সাইকেল স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। সুস্থ থাকার জন্য অনেকে সাইকেল বাসায় চালায়, সেটা হচ্ছে স্টেশনারি সাইকেল। সাইকেল তো রাস্তায় চলতে হবে। তাদের জন্য একটা স্পেস দিতে চট্টগ্রামের মেয়র উদ্যোগ নিয়েছেন।
“আজকে সাইক্লিস্টদের জন্য যেটা হয়েছে, এটা মাত্র শুরু। চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় যাতে মানুষ সাইকেলে যাতায়াত করতে পারে, বিনোদনের জন্য ও শরীর চর্চার জন্য যেতে পারে, অনেকগুলো ট্র্যাক করা হবে ক্রমান্বয়ে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “যারা হাঁটতে পারে না—জায়গার অভাবে, ঘরবন্দি হয়ে বসে থাকেন; তাদের জন্য মেয়রকে অনুরোধ করেছি, তাদের জন্য যেখানে সম্ভব হাঁটার রাস্তা করে দেন। খালের দুই পাড়ে রাস্তা করে দেন।
“মানুষকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। হাঁটার জন্য পথ করে দিতে হবে। সাইকেল চালানোর জন্য পথ করে দিতে হবে। আমরা বিগত দিনে এই সমস্যাগুলোকে সেভাবে সামনে আনি নাই। প্রত্যেকটা নাগরিকের যে চাহিদা, আমরা একটা একটা করে সেগুলো পূরণের চেষ্টা করছি।”
চট্টগ্রামের ছেলে আমির খসরু বলেন, “এগুলো একটা নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা; এটা কোনো লাক্সারি না। একটি সভ্য, উন্নত দেশে সাধারণ নাগরিকের এগুলো চাহিদা। এগুলো আমাদেরকে পূরণ করতে হবে।
“সবার জন্য জায়গা সৃষ্টি করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক একটা দেশ গড়ার জন্য। এটা তার একটা প্রজেক্ট।”
অনুষ্ঠান শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “এটি বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক। যেহেতু এয়ারপোর্ট রোডের সৌন্দর্যবর্ধন আমরা করেছি। আমাদের অনেকদিনের পরিকল্পনা ছিল একটা সাইকেল ট্র্যাক করার।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার আমাকে বলছিলেন যে, চট্টগ্রাম একটি সৌন্দর্যমণ্ডিত জায়গা। এখানে পাহাড়, সমুদ্র—সবই আছে। এগুলোকে ধরে রাখার জন্য নতুন নতুন কিছু কাজ করতে হবে।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটিতে চার লেইন রয়েছে। সড়কের উভয় পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত। সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং একপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে সাইকেল ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এতে নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রী, মেয়র, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সাইক্লিস্টরা এই ট্র্যাকে সাইকেল চালান।
