২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা’ করতে দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী

“যারাই পোর্ট চালাক, জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে তাদেরকে একই পথে চালিত হতে হবে।“

‘পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা’ করতে দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 06:02 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

বিএনপি সরকারের আমলে ‘পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা’ কাউকে করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলন কক্ষে বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে অবৈধ পণ্য খালাসে একটি চক্র গড়ে উঠেছে দাবি করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “কাস্টমস যে পণ্য লক (আটক) করে, সেরকম একাধিক কনটেইনার গত দুই মাস ধরে বন্দরে আটকা আছে। এগুলো তারা কায়িক পরীক্ষা করতে পারছে না। বলা হচ্ছে, যাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রীর খুব পরিচিত ব্যবসায়ীরা এই পণ্যগুলো আমদানি করেছেন। এক্ষেত্রে কাস্টমসকে ভয়মুক্ত করার জন্য আপনার কোনো আশ্বাস থাকবে কি না?”

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “এখানে কে কার সাথে পরিচিত, এই সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। যে যার সাথে জড়িত থাকবে, পরিচিত থাকবে, এই সরকারের অধীনে এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা আমরা করতে দেব না। 

“সুতরাং এগুলো অবান্তর প্রশ্ন। এই সরকারের আমলে কোনো পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নাই। সে যত বড়ই মন্ত্রী হোক, যত পাওয়ারফুল লোক হোক। এখানে তার কোনো সুযোগ নাই।”

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বিষয়ে জানতে চান অন্য এক সাংবাদিক। 

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যারাই পোর্ট চালাক, তাদেরকে এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে তাদেরকে একই পথে চালিত হতে হবে। 

“পোর্ট কে চালাবে না চালাবে, এটা আমাদের বিষয় না। যার হাতে পোর্ট থাকবে, সেটা দেশি হোক বিদেশি হোক; তাদেরকে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।”

পরের প্রশ্নে এক সাংবাদিক বলেন, বিজিএমইএ এর একটা হিসাব আছে। গত তিন বছরে প্রায় চারশ কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না? 

উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই তো আজকের উদ্যোগটা তার একটা উদ্যোগ। যে শিল্প কারখানাগুলোতে যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। কারো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তাদের যাতে ব্যবসায়িক খরচ কমে আসে; তারা যাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।”

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থনীতিকে সরলীকরণ করা হয়েছে। ডিরেগুলেশন করা হয়েছে। ট্যাক্সেশন কমানো হয়েছে। যাতে শিল্পগুলো উঠে আসতে পারে। অনেকগুলো উদ্যোগ এই সরকার নিয়েছে। 

“এবং আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, বিদেশিরা কী হারে এখানে আসছে। অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।”

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস-প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিমা এশিয়া বিষয়ক) ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। 

সেই প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই যে বাংলাদেশে উদ্যোগের কথা বলছেন। চট্টগ্রামে এডিবি কখনো আসছে? এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামের স্টেক হোল্ডারদের সাথে কথা বলতে আসছেন। মানে কী? অর্থাৎ চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা আছে। 

“‍শুধু লজিস্টিক হাব হিসেবে নয়, আগামী দিনে চট্টগ্রামকে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে তারা দেখতে চায়। এডিবির সাথে আজকের সভা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এডিবির যে পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়নের জন্য আজকে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করবেন।”

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর ও কাস্টমসের সাথে হওয়া সভার বিষয়ে তিনি বলেন, “কাস্টমস ও পোর্টের মধ্যে একটা জয়েন্ট কমিটি হতে যাচ্ছে। উনারা যেকোনো সমস্যা একসাথে সমাধান করবেন। পোর্ট কাস্টমসের কারণে খরচ বাড়লে এটা জনগণকে দিতে হয়। এই খরচগুলো যাতে আগামীদিনে জনগণের উপর ও ব্যবসায়ীদের উপর না চাপাতে হয়। 

“প্রতিযোগিতামূলক হতে না পারলে, আগামী দিনের বিশ্বে যে প্রতিযোগিতা তাতে আমরা টিকে থাকতে পারব না। আগামী দিনে পোর্ট ও কাস্টমস মিলে নতুন ধারার সৃষ্টি হবে; যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার ও জনগণ লাভবান হবে। আগামী ২০৩৪ সনে যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কথা বলছি, সেটার পথ সুগম হবে।”

বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীলের দিকে নিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাঙা করা। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙা করে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমাদের রপ্তানি বাড়ানো, শিল্পায়ন বাড়ানো। এবং ব্যবসার জন্য একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা। যাতে করে ব্যবসায়ীরা কোন বাধাগ্রস্ত না হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।” 

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের উচ্চ দ্রব্যমূল্য এর অনেকটা কারণ হচ্ছে পোর্টে অতিরিক্ত খরচ হয়। কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টা বারবার উঠে এসেছে। কোথায় কোথায় সমস্যগুলো আছে, প্রত্যেকটি আমরা চিহ্নিত করেছি। এবং প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান কি হওয়া দরকার সিদ্ধান্তও নিয়েছি।

“কোনো সিদ্ধান্ত কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, সেটারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যাতে করে আগামী দিনে পোর্ট ও কাস্টমস একসাথে কাজ করতে পারে। সিদ্ধান্তগুলো খুব সহসা কার্যকর হবে; যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষতার সাথে হবে। কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস হবে। কম সময়ের মধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে।”