১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চালু হচ্ছে এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার, গ্যাস সংকট কমার আশা

দুইশ থেকে আড়াইশ এমএমসিএফটি গ্যাস মিলতে পারে।

চালু হচ্ছে এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার, গ্যাস সংকট কমার আশা
বুধবার সকালে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 02:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার চালু হতে পারে বুধবার রাতে।

এদিন সকালে এ তথ্য দিয়েছেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, “আমাদের এফএসআরইউ যেটা আছে, সেখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেটা আমাদের দেশি এবং বিদেশি প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। এটা হয়তবা আজকে রাত্রে থেকেই কিছু উন্নতি হবে। প্রায় সাড়ে চারশ এমএমসিএফটি (মিলিয়ন ঘটফুট) গ্যাস আমরা কম পাচ্ছি। সেটা হয়ত আংশিকভাবে…।

“এখানে দুইটা বয়লার ছিল। তার মধ্যে একটা বয়লার হয়তবা চালু হয়ে যাবে আজকে থেকেই। রাত্রে থেকে। বাকি অংশ পরবর্তীতে হবে। এতে অর্ধেক আসবে। দুইশ থেকে আড়াইশ এমএমসিএফটি হয়ত আসতে পারে।”

নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন এই প্রকৌশলী। 

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট ও সরবরাহ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম চালু রাখছি। আমরা আনোয়ারা থেকে গ্যাস গ্রহণ করি। 

“আমরা এখন দিতে পারছি প্রায় ২০০ এমএমসিএফটি। নরমালি আমরা ২৬০-২৭০ এর মত থাকে। এখন ২০০ এর কাছাকাছি দিচ্ছি।”

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গত ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যা শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ কম ছিল। শনিবার রাত থেকে সরবরাহ আরো কমানো হয়েছে।

এতে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শিল্প কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে মারাত্মকভাবে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানায় যেমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাসের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। 

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে জাতীয় গ্রিড থেকে সেখানে বেশি পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ গত দুদিনে আরো কমেছে। এটাই বর্তমান সংকটের কারণ।

কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএসসিএফটি)। ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরদিন চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে ২৩০ এমএমসিএফটি গ্যাস মিলছিল। গত শনিবার তা কমে দাঁড়ায় ২১৭ এমএমসিএফটি। 

রোববার এটি আরও কমে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি নামে। সবশেষ সোমবার গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট। 

তার মানে তিনদিনে চট্টগ্রামে ৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে। 

মঙ্গলবারও একইভাবে গ্যাস সংকটে ভুগেছে নগরবাসী। তবে এদিন সকালে ১০টা পর্যন্ত বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ গত কয়েকদিনের তুলনায় ভালো ছিল। 

তারপর আবার গ্যাসের চাপ কমে যায়।