Published : 20 Aug 2026, 11:28 PM
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে ‘একতারা ও রবীন্দ্র বীণা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়নে এই আয়োজন হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক সুধীর বিকাশ দেব বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাউল দর্শনের মূল ভিত্তি মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সীমানা ছাড়িয়ে অন্তরের ‘মনের মানুষ’ খুঁজে পাওয়ার আকুলতা।
“এই মরমী লোকদর্শন কবিকে প্রথাগত ও সংকীর্ণ সামাজিক সংস্কারের বিরুদ্ধে এক গভীর প্রগতিশীল অবস্থানে উন্নীত করেছিল। বাউলদের মত রবীন্দ্রনাথও বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর কোনো দূরের মন্দিরে বা মসজিদে বন্দি নন, তিনি মানুষের অন্তরে ‘মনের মানুষ’ হিসেবে বাস করেন।”
সভাপতির বক্তব্যে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি জসীম চৌধুরী সবুজ বলেন, “সংস্কৃতি কেবল অতীতকে স্মরণ করার বিষয় নয় বরং সংস্কৃতি মানুষের মনে চেতনা জাগ্রত করে, বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি যোগায় এবং মানুষকে মানুষের নৈকট্যে নিয়ে আসে।
“উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দীর্ঘ সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় শোষণ, নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংগ্রামে অবিচল থেকে মানব মুক্তির জয়গান গেয়ে ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।”
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অসীম বিকাশ দাশের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভীক ওসমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শেখ সাদী।
আলোচনা সভা শেষে সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বোয়ালখালী থানা সংসদ। নৃত্য পরিবেশন করেন মাধবী নৃত্যকলা একাডেমি।
এরপর অপর্না চৌধুরীর সংগীত পরিচালনায় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীরা ‘একতারা ও রবীন্দ্র বীণা’ সুর আলেখ্য পরিবেশন করেন।
সর্বশেষ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগঠন সংগীতের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।